বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিচ্ছেদ্য নাম বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর এক সাধারণ গৃহবধূ থেকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা এই নেত্রীর জীবন ছিল সংগ্রাম ও সাহসের এক অনন্য উদাহরণ। সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, তিন দফায় রাষ্ট্র পরিচালনা এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তার নেতৃত্ব দেশের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
আজ ১৫ আগস্ট তার ৮২তম জন্মদিন। তবে এবারের জন্মদিনটি তার সশরীরে উপস্থিতি ছাড়াই পালন করছে বিএনপি ও তার অনুসারীরা। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। শোক ও শ্রদ্ধায় দেশবাসী সেই আপসহীন নেত্রীকে স্মরণ করছে।
খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আজ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার সকালে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া বিকেলে ঢাকার মহাখালী কড়াইল এলাকার টিঅ্যান্ডটি মাঠে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে অনুদান বিতরণ এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার প্রবেশ ছিল আকস্মিক। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর দেশের রাজনীতিতে এক শূন্যতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করলে বিএনপির নেতাকর্মীদের আহ্বানে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে বিএনপির আন্দোলনে খালেদা জিয়া সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন। ১৯৮৩ সালে সাতদলীয় জোট গঠনের মাধ্যমে এরশাদবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়। এই দীর্ঘ সংগ্রামে অংশ নেওয়ার কারণে তাকে বিভিন্ন সময়ে সাতবার কারাবন্দি হতে হয়েছিল। ১৯৯০ সালে এরশাদ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হলে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে ১৯ মার্চ তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার প্রথম মেয়াদে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, নারীশিক্ষা ও বৃত্তিসহ অর্থনৈতিক সংস্কারে বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সে সময় আন্দোলনের মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে ২৫ মার্চ সংসদে বিল পাস হয় এবং ৩০ মার্চ তিনি পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট বড় ধরনের বিজয় অর্জন করলে ১০ অক্টোবর তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে শিক্ষা, যোগাযোগ, নারী উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তায় তার সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে।
২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট বড় ধরনের বিজয় অর্জন করে। ১০ অক্টোবর তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে শিক্ষা, যোগাযোগ, নারীশিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়।

















