তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে এখন শোকাতুর মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং হামলায় নিহত তাঁর পরিবারের সদস্যদের কফিন ছুঁয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে সমবেত হয়েছেন লাখো ইরানি। দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষের কাছে এটি তাদের প্রিয় নেতাকে বিদায় জানানোর শেষ সুযোগ।
ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে এই শোকানুষ্ঠান কেবল শোক প্রকাশের মাধ্যম নয়, বরং এটি তাদের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার এক বড় প্রকাশ। প্রায় চার দশক ধরে রাষ্ট্র পরিচালনা করা খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর দেশটির নেতৃত্ব বিশ্বকে দেখাতে চায় যে, খামেনি যে রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন তা এখনো অটুট রয়েছে এবং কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই ক্ষমতার হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে।
আগামী দিনগুলোতে তেহরানের রাস্তায় এই গণজোয়ার আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক ‘ফ্রিডম স্কয়ার’ বা আযাদী স্কয়ারে খামেনির কফিন নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে সর্বসাধারণের প্রদর্শনের জন্য বিশাল সমাবেশের প্রস্তুতি চলছে।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ জুলাই তাঁর মরদেহ পবিত্র শিয়া নগরী কোমে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর ৮ জুলাই কফিন ইরাকের পবিত্র দুই নগরী কারবালা ও নাজাফে নেওয়া হবে। সবশেষে ৯ জুলাই মরদেহ ফিরিয়ে আনা হবে ইরানের মাশহাদ শহরে। খামেনির জন্মস্থান এবং শিয়া ইসলামের অষ্টম ইমামের পবিত্র মাজার এখানেই অবস্থিত, আর সেখানেই তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে।

















