ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর কলকাতায় দুর্গাপূজার একটি মণ্ডপে পদদলিত হয়ে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় আরও ২৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে গিরিশ পার্ক থানার আওতাধীন চোরবাগানের সারদা পার্কের মণ্ডপের প্রবেশপথে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। কলকাতা পুলিশের তথ্যমতে, বৃষ্টির কারণে এবং দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে এই পদদলনের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আহতদের উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং চিকিৎসকসহ অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়। ঘটনার পর মণ্ডপটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং আয়োজক কমিটির সদস্যসহ ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। পূজা কমিটির আয়োজক বিকাশ দাস জানান, ভিড়ের চাপে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়, তবে উদ্ধারকাজই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মণ্ডপের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সরু ছিল এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও ছিল না।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া তিনি রাজ্যের বড় মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন এবং নিহতদের পরিবারকে ২৫ লাখ রুপি ও সরকারি চাকরির ঘোষণা দিয়েছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের জন্য দুই লাখ এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দুর্ঘটনার পর তার রাজনৈতিক কর্মসূচি স্থগিত করেছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলেছেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

















