কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ তার পরিবারের চারজন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত অন্যরা হলেন দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন, তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম আলী। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে হোটেলের চার তলায় এয়ার কন্ডিশনার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করছে কলকাতা পুলিশ। ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মোট ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি।
চিকিৎসার প্রয়োজনে গত ৩রা আগস্ট দেবাশীষ তার পরিবার নিয়ে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। সেখানে নারায়ণা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গত ১৮ই আগস্ট তারা কলকাতায় ফেরেন। দেশে ফেরার আগে কেনাকাটার জন্য তারা ওই হোটেলে উঠেছিলেন। দেবাশীষের ভায়রা মিটু চিকিৎসার কাজে তাদের সঙ্গে থাকলেও তিনি হোটেলে না ওঠায় প্রাণে বেঁচে যান।
সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ার একটি ভাড়াবাসায় বাবা-মা ও সাত বছরের মেয়ে মহিমাকে নিয়ে থাকতেন। তিনি আজকের পত্রিকা, চ্যানেল নাইন ও দৈনিক আজকের আলোর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাবা দিলীপ কুমার দত্ত জানান, দেবাশীষই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্ট্রোকের রোগী মা ও হার্টের রোগী বাবার প্রতি মাসে ১০-১২ হাজার টাকার ওষুধের খরচসহ সংসারের যাবতীয় ব্যয়ভার তিনিই বহন করতেন। এখন ছোট্ট মহিমার ভবিষ্যৎ ও পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে বৃদ্ধ দম্পতি দিশেহারা।
ঘটনার আগের রাতেও ভিডিও কলে মহিমার সঙ্গে কথা বলেছিলেন দেবাশীষ। বাবা-মা ও ভাইয়ের ফেরার অপেক্ষায় থাকা মহিমা এখনো জানে না সে তার পুরো পৃথিবী হারিয়ে ফেলেছে। বুধবার কুষ্টিয়ায় এই খবর পৌঁছালে সহকর্মী ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, হোটেল থেকে ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ আজ বৃহস্পতিবার দেশে ফিরিয়ে আনার কথা রয়েছে।

















