ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার চোরবাগানে দুর্গাপূজার মণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে ১৭ জন নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। সপ্তমীর সন্ধ্যায় বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে প্রবেশের জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যায় প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে বৃষ্টি থেকে বাঁচতে দর্শনার্থীরা দ্রুত মণ্ডপের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এ সময় ঠেলাঠেলিতে কয়েকজন পড়ে গেলে পদদলনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মণ্ডপের ভেতরে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে বের হওয়ার জন্য তৈরি বৃত্তাকার চলাচলের পথেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির এবারের মণ্ডপটি ‘অরব’ থিমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল, যা দেখতে সপ্তমীর সন্ধ্যায় বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছিল।
ঘটনার পর মণ্ডপের আলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার পথও রুদ্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলেও সময়মতো পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের সহায়তা পাওয়া যায়নি। পূজার অন্যতম উদ্যোক্তা বিকাশ দাস জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি বুঝতে পারছেন না এবং বর্তমানে তাদের প্রধান লক্ষ্য আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসা নিশ্চিত করা। পুলিশ ও দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন, তবে ভিড়ের চাপে পদদলনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষ বলে তিনি জানান।
শনিবার রাতে হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং দায়ীদের শনাক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। দুর্ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি মণ্ডপের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কথাও জানানো হয়েছে। রাজ্য সরকার নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা ও দুর্ঘটনাসংক্রান্ত তথ্যের জন্য একটি টোল ফ্রি হেল্পলাইন চালু করেছে।

















