বিশ্ব

কলকাতায় সেনা এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশের ৩ পলাতক জেনারেল

প্রতিবেদক
২৬ দিন পর অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিন পর অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক ঢাকাসহ ১০ জেলায় ঘণ্টায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস ঢাকাসহ ১০ জেলায় ঘণ্টায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস বন্যার পানি নামার পরেই প্রকট হচ্ছে জনদুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র বন্যার পানি নামার পরেই প্রকট হচ্ছে জনদুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ইরান সফর শেষে দেশে ফিরলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি ইরান সফর শেষে দেশে ফিরলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে স্বীকৃতির শর্তে সৌদির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি: ট্রাম্প ইসরায়েলকে স্বীকৃতির শর্তে সৌদির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি: ট্রাম্প ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌদিতে ওমরাহ যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি নিহত সৌদিতে ওমরাহ যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি নিহত পদত্যাগ করছেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন, নতুন প্রেসিডেন্টের খোঁজে বিএনপি পদত্যাগ করছেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন, নতুন প্রেসিডেন্টের খোঁজে বিএনপি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ আজ বা কাল, স্পিকার দেশে ফিরছেন আগেই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ আজ বা কাল, স্পিকার দেশে ফিরছেন আগেই
সব খবর

ভারতে পলাতক বাংলাদেশের তিন আলোচিত জেনারেল— লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মো. মুজিবুর রহমান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন এবং মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ এখন কলকাতার সেনা আবাসিক এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন। ঢাকা ও কলকাতার একাধিক নিরাপত্তা সূত্র আমার দেশকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পলাতক এই তিন জেনারেলকে মোদি সরকার সম্প্রতি বেসামরিক এলাকা থেকে সরিয়ে কলকাতার সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় নিয়ে গেছে। তারা পতিত স্বৈরাচার ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী এবং ভারতের ডিপ স্টেট তথা গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

তিন জেনারেলের মধ্যে মুজিব ও আকবর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরপরই দেশ ছেড়ে পালিয়ে কলকাতায় আশ্রয় নেন। এরপর গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের উদ্যোগের পর গত বছরের অক্টোবরে জেনারেল কবীর আহাম্মদও দেশ ছেড়ে পালিয়ে কলকাতায় চলে যান।

বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, আয়নাঘরে নির্যাতন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখতে বিরোধী দল দমনসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত পলাতক এই তিন জেনারেল কলকাতার অভিজাত এলাকা সল্টলেক ও নিউ টাউনের সঞ্জিবা গার্ডেন কমপ্লেক্সে পরিবারসহ বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি তাদের এই বেসামরিক এলাকা থেকে সরিয়ে হুগলি ব্রিজের পাশে অবস্থিত সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কলকাতার নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, তিন জেনারেলকে সেনা আবাসিক এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা খুবই ইঙ্গিতবহ। এই সেনা আবাসিক এলাকাটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং বিশেষ পাস ছাড়া সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ। পলাতক এই তিন জেনারেল নিয়মিতই শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করেন। ভারতীয় ডিপ স্টেটের সঙ্গে মিলে কীভাবে আবার রাজনীতিতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়েই তারা তৎপর।

নিরাপত্তা সূত্রগুলো আরো জানিয়েছে, এই তিন জেনারেল নিয়মিতই, বিশেষ করে ছুটির দিনে, কলকাতা সিটি সেন্টার-২-এ অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন। সম্প্রতি কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গেও তাদের দেখা গেছে।

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা তিন জেনারেলের তৎপরতা এবং তাদের সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় আশ্রয় দেওয়ার ঘটনাকে বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলছেন, নানা অপরাধে জড়িত এই তিন জেনারেলকে ভারত তাদের স্বার্থে এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যবহারের জন্য সুরক্ষিত সেনা আবাসিক এলাকায় আশ্রয় দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব অপরাধী জেনারেলের বিচার প্রক্রিয়া শেষ করা এবং অপরাধীদের ভারত যে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক বিশ্বকে জানানো।

উল্লেখ্য, জুলাই বিপ্লবের পর ফ্যাসিস্ট হাসিনাসহ তার যেসব সহযোগী ভারতে পালিয়ে গেছে, তাদের পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেস তৈরি করেছে ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো। সেই ডেটাবেসে জেনারেল মুজিব, জেনারেল আকবর এবং জেনারেল কবীরের সঙ্গে থাকা পরিবারের অন্য সদস্যদের যাবতীয় তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের বিপ্লবের পরও সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন জেনারেল মুজিব। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তাকে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত হওয়ার পর তিনি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। তিনি শেখ হাসিনার খুবই বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন এবং আর্মড ফোর্সেস ও পুলিশে ‘র’-এর অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। জেনারেল মুজিব বাংলাদেশে ‘র’-এর কো-অর্ডিনেটর হিসেবে চিহ্নিত। বিমান বাহিনীতে ‘র’-এর শ্যাডো রিক্রুটার হিসেবে কাজ করা স্কোয়াড্রন লিডার আবদুল্লাহ ইবনে আলতাফ গ্রেপ্তার হওয়ার পর সামগ্রিক তদন্তে সামরিক বাহিনীতে ‘র’-এর নেটওয়ার্ক ও জেনারেল মুজিবের সম্পর্ক বেরিয়ে আসে। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে টানা ক্ষমতায় রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে হুমকির মধ্যে ফেলে দেন জেনারেল মুজিব ও তার নেটওয়ার্কের সদস্যরা।

জুলাই বিপ্লব চলাকালে সেনাবাহিনীতে ভারতপন্থি ক্যু করানোর জন্যও জেনারেল মুজিব চেষ্টা করেন। প্রথমে ২০২৪ সালের ২ আগস্ট এবং পরে হাসিনার পলায়নের পরদিন ৬ আগস্ট তিনি ক্যু করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় শেখ হাসিনার ভারতে পলায়নের ‘রেসকিউ মিশন’ সফল করার ক্ষেত্রেও জেনারেল মুজিবের বিশেষ ভূমিকা ছিল।

হাসিনা সরকারের পতনের পর জরুরি অবস্থা বা সামরিক আইন ঘোষণা করার জন্য তিনি কুখ্যাত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল তাবরেজ শামস, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক, মেজর জেনারেল হামিদুল হক, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরান হামিদের সঙ্গে একাধিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেন। কুখ্যাত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের সঙ্গে মিলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও আয়নাঘরে নির্মম নির্যাতনের মতো সব অপরাধের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি (মাস্টারমাইন্ড) ছিলেন তিনি। সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ওপর যে বর্বরতম হামলা হয়, তারও পরিকল্পনাকারী ও অপারেশন পরিচালনার অন্যতম দায়িত্বে ছিলেন মুজিব। র‌্যাবের জিয়াউল আহসানের সৃষ্টিও মুজিবের হাতে।

দুর্নীতির অভিযোগে লে. জে. মুজিব ও তার স্ত্রী তাসরিন মুজিবের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করেছে। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাদের ৩৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ এবং তাদের নামে থাকা ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট, খিলক্ষেত ও পূর্বাচল এলাকায় থাকা ১০টি প্লট জব্দের আদেশ দিয়েছে।

ফ্যাসিস্ট হাসিনার আরেক একান্ত অনুগত এবং ভারতের ডিপ স্টেটের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ গুম, খুনের সঙ্গে জড়িত দুটি ভুয়া নির্বাচনের মূল কারিগর লে. জে. (অব.) মো. আকবর হোসেন জুলাই বিপ্লবের পর কোনো এক সময়ে ভারতে পালিয়ে যান। ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান এই তিন তারকা জেনারেল বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, আয়নাঘরে নির্যাতন, বিরোধী দল দমনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার মতো নানা অপরাধের অন্যতম হোতা।

জেনারেল মুজিবের মতো তিনিও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ভারতীয় ডিপ স্টেট ‘র’-এর অনুপ্রবেশ ঘটানোর অন্যতম কারিগর ছিলেন। ২০১৪ সালের বিনা ভোটের এবং ২০১৮ সালের রাতের ভোটের মূল মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই বিতর্কিত জেনারেল। ২০১৪ সালের একতরফা বিনা ভোটের নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য বিরোধী দল। ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং তখন ঢাকায় এসে নির্বাচনে যেতে এরশাদের ওপর চাপ দেন। তবে এরশাদ রাজি হননি। পরবর্তী সময়ে দিল্লির নির্দেশে তৎকালীন ডিজিএফআই-প্রধান জেনারেল আকবর বাসা থেকে এরশাদকে জোর করে তুলে নিয়ে সিএমএইচে বন্দি করে রাখেন এবং জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে যেতে বাধ্য করেন।

বহুল আলোচিত সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার অন্যতম হোতা ছিলেন এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা। তিনি এখন কলকাতায় বসে হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য ভারতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপর। ইতোমধ্যে জোরপূর্বক গুমের অভিযোগে সাবেক এই জেনারেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গুম ও নির্যাতনের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পতিত স্বৈরাচার হাসিনার সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ গত বছরের অক্টোবরে ভারতে পালিয়ে যান। জেনারেল কবীরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে সেনা সদরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেনারেল কবীরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

একজন সার্ভিং বা কর্মরত জেনারেল কীভাবে দেশ থেকে পালিয়ে ভারতের মতো বৈরী প্রতিবেশী রাষ্ট্রে আশ্রয় নিলেন তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন এবং উদ্বেগ তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে গুমের দায়ে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে, তা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন জেনারেল কবীর। তিনি তখন কলকাতা যাওয়া-আসার মধ্যে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর গত ৯ অক্টোবর জেনারেল কবীর বিশেষ ব্যবস্থায় তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ আমলের গুমের ঘটনায় দুটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ৮ অক্টোবর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে। তাদের মধ্যে ২৫ জনই সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা। এদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিলেন জেনারেল কবীর।

গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জেনারেল কবীর প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। জুলাই বিপ্লবের পর স্কুল অব ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকসের কমান্ড্যান্টের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। সবশেষ গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর তার চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।

গত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় খুনি মে. জে. জিয়াউল আহসান এবং কদমবুচি জেনারেল হিসেবে পরিচিত মে. জে. মাহবুব রশিদের কোর্সমেট হওয়ার সুবাদে ডিজিএফআইয়ের সিটি আইবিতে পোস্টিং দেওয়া হয় জেনারেল কবীরকে। পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবের পদ লাভ করেন তিনি। জেনারেল জিয়া, মাহবুব ও কবীর একসঙ্গে গুম-নির্যাতনের পাশাপাশি নানা দুর্নীতি ও অপরাধে জড়ান। নেত্রকোনার বাসিন্দা জেনারেল কবীর জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টের জিওসিকে মোবাইলে ফোন করে ছাত্রদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর জন্য শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে নির্দেশ দেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত তাদের আরাম-আয়েশ করার জন্য এই জেনারেলদের আশ্রয় দেয়নি, বরং নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যবহার করতে পারে। এসব জেনারেল নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি।

তারা আরো বলেন, আমাদের জেনারেলরা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিচ্ছেন এবং ভারত তাদের আশ্রয় দিচ্ছে, এটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি। ভারত আসলে উসকানি দিচ্ছে এবং বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। ভারতে যেসব জেনারেল আশ্রয় নিচ্ছেন তারা যে ভারতের হয়ে এখানে নানা ধরনের অপরাধ করেছেন তা এখন প্রমাণিত। ভারত এই অপরাধী জেনারেলদের আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।

অপরাধী জেনারেলদের ভারত যে আশ্রয় দিচ্ছে, সে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশি বেশি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে বিশ্লেষকরা বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেকেই নজর রাখছে। সরকারের দায়িত্ব হলো বিষয়টি ব্যাপকভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা এবং এসব অপরাধীর বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে দ্রুত শেষ করা। এটা করতে পারলে ভারত আন্তর্জাতিকভাবে চাপে পড়বে।

২৬ দিন পর অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিন পর অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক ঢাকাসহ ১০ জেলায় ঘণ্টায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস ঢাকাসহ ১০ জেলায় ঘণ্টায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস বন্যার পানি নামার পরেই প্রকট হচ্ছে জনদুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র বন্যার পানি নামার পরেই প্রকট হচ্ছে জনদুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ইরান সফর শেষে দেশে ফিরলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি ইরান সফর শেষে দেশে ফিরলেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে স্বীকৃতির শর্তে সৌদির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি: ট্রাম্প ইসরায়েলকে স্বীকৃতির শর্তে সৌদির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি: ট্রাম্প ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌদিতে ওমরাহ যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি নিহত সৌদিতে ওমরাহ যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি নিহত পদত্যাগ করছেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন, নতুন প্রেসিডেন্টের খোঁজে বিএনপি পদত্যাগ করছেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন, নতুন প্রেসিডেন্টের খোঁজে বিএনপি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ আজ বা কাল, স্পিকার দেশে ফিরছেন আগেই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ আজ বা কাল, স্পিকার দেশে ফিরছেন আগেই
সব খবর