কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত করতে নিজেদের মধ্যে অবৈধ সমঝোতা করার অভিযোগে অ্যানথ্রপিক, ওপেনএআই, স্পেসএক্সএআই ও গুগলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। বাদীদের অভিযোগ, এআই উন্নয়নের গতি কমানোর বিষয়ে কোম্পানিগুলো পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টিট্রাস্ট আইন লঙ্ঘন করেছে। এর ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাওয়ায় অর্থ প্রদানকারী গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে। মার্কিন বার্তাসংস্থা সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সমন্বয়ের বিষয়টি গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রকাশ্যে আসে, যখন অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এআই নিরাপত্তার সুবিধার্থে শিল্পখাতজুড়ে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। ওই একই দিনে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান, স্পেসএক্সএআইয়ের প্রধান ইলন মাস্ক এবং গুগল ডিপমাইন্ডের চেয়ারম্যান ডেমিস হাসাবিস প্রকাশ্যে এই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেন।
তবে বাদীদের দাবি, এই সমন্বয়ের প্রক্রিয়াটি ১২ সেপ্টেম্বরের অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছিল। মামলায় ২০২৬ সালের জুলাইয়ের একটি বিবৃতির উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে শীর্ষ এআই গবেষণাগারের উচ্চপদস্থ কর্মীরা স্বাক্ষর করেছিলেন। সেখানে এককভাবে এআই উন্নয়নের গতি কমালে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কার কথা স্বীকার করা হয়েছিল এবং বৈশ্বিক উদ্যোগে সরকারের সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছিল। বাদীদের আইনজীবীদের মতে, এই ধরনের চুক্তি ভোক্তাদের স্বার্থের পরিপন্থী। চ্যাটজিপিটি, ক্লদ, গ্রক বা জেমিনির মতো সেবা ব্যবহারকারী চারজন গ্রাহকের পক্ষে এই মামলা করা হয়েছে এবং অন্য গ্রাহকদেরও এতে অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে।
বাদীরা স্পষ্ট করেছেন যে, নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো কোম্পানি এককভাবে এআই উন্নয়নের গতি কমালে তাদের আপত্তি নেই, কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত সিদ্ধান্ত বা ‘শর্টকাট’ নেওয়ার বিষয়টিই তাদের মূল অভিযোগ। বাদীদের প্রধান আইনজীবী নিক রাওলি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, শক্তিশালী মুনাফাভিত্তিক কোম্পানিগুলো এভাবে নীতি নিয়ন্ত্রণ করলে প্রযুক্তিটি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এআই উন্নয়নের গতি কমানোর প্রস্তাবের সময় আমোদেই নিজেও অ্যান্টিট্রাস্ট জটিলতার কথা উল্লেখ করেছিলেন এবং সরকারি সহায়তার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। স্যাম অল্টম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিন্ন নিয়মের পক্ষে কথা বললেও এ ধরনের কাজের জন্য নতুন আইনের অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে এআই খাতের নেতারা নিরাপত্তার জন্য অভিন্ন মানদণ্ডের কথা জোর দিয়ে আসছেন। তবে এই মামলাটি এআই নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ভিন্ন এক আইনি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই নিয়ন্ত্রণের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে একে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন এবং একটি টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট নেতা ও রিপাবলিকান সিনেটর জশ হাওলি অ্যান্টিট্রাস্ট আইনের ছাড় দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। শনিবার পর্যন্ত অভিযুক্ত কোনো কোম্পানিই এই মামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।

















