শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নির্ধারিত হয়ে যায় ভাগ্য। একজন বিজয়ী হিসেবে মাঠ ছাড়েন, আর অন্যজন বিদায় নেন বিশ্বকাপ থেকে। পরাজয়ের এই বাস্তব যাত্রা স্টেডিয়াম থেকেই শুরু হয়। স্কোরবোর্ডে জ্বলতে থাকা ফলটি তখন দুই দলের খেলোয়াড়দের জন্য ভিন্ন বার্তা বয়ে আনে। একদিকে উৎসবের আমেজ, অন্যদিকে নীরবতা। কেউ মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকেন, কেউ জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে মাঠের দিকে তাকিয়ে থাকেন বিষণ্ণ মনে।
এমবাপ্পের মতো তারকা, যার গতির ওপর নির্ভর করে একটি দেশের স্বপ্ন, পরাজয়ের পর হয়তো তাকেই সবচেয়ে ধীরে ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটতে দেখা যায়। আবার ইয়ামালের মতো তরুণ প্রতিভা, যাকে ঘিরে নতুন যুগের স্বপ্ন দেখছে স্পেন, তাকেও শিখতে হয় যে বিশ্বকাপ শুধু নায়কই তৈরি করে না, বরং হৃদয়ও ভেঙে দেয়। ড্রেসিংরুমে তখন নেমে আসে নিস্তব্ধতা। কোচ হয়তো কিছু বলার চেষ্টা করেন, কিন্তু সেই কথা অনেকের কানেই পৌঁছায় না।
পরদিন বিমানবন্দরের যাত্রা আরও কঠিন হয়ে ওঠে। লাগেজ বিমানে তোলা হলেও খেলোয়াড়দের মন পড়ে থাকে সেই মাঠেই। বিমান আকাশে উড়লে নিচে ছোট হয়ে আসে সেই দেশ, যেখানে তারা স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন। বিমানের জানালার পাশে বসে কেউ বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকেন, কেউ হেডফোনে চোখ বন্ধ করে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নেন। মোবাইল খুললেই ভেসে আসে হাজারো বার্তা—সান্ত্বনা, সমালোচনা আর পরিবারের ফোন।
নিজের ভেতরে তখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খায়, আরেকটু যদি ভালো করা যেত! বিশ্বকাপ থেকে বাড়ি ফেরার এই ফ্লাইটের দূরত্ব মানচিত্রে মাপা গেলেও স্মৃতির পাতায় তা দীর্ঘ হয়েই থাকে। একটি ভুল পাস, মিস করা সুযোগ কিংবা একটি সেভ—সবই বারবার ফিরে আসে। বিমান প্যারিস বা মাদ্রিদে নামার পর সমর্থকরা হয়তো পতাকা ওড়াবেন বা করতালি দেবেন, কিন্তু পরাজয় বরণ করা ফুটবলারদের একটি অংশ চিরতরে সেই মাঠেই থেকে যায়। শেষ বাঁশির সেই মুহূর্তটি তাদের মনে সারাজীবন দাগ কেটে থাকে।

















