নওগাঁর মান্দায় মেয়েশিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের নামে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বিশেষ বরাদ্দের প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে ভুয়া স্বাক্ষর ও বিল-ভাউচারের মাধ্যমে এই অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। কাগজপত্রে দুই দিনের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ভাতার হিসাব দেখানো হলেও বাস্তবে একদিনেই প্রশিক্ষণ শেষ করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের নগদ ভাতার পরিবর্তে কেবল একটি স্যানিটারি প্যাড ও সামান্য নাস্তা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপির বিশেষ বরাদ্দ থেকে ৬৪ জন শিক্ষার্থী ও চারজন প্রশিক্ষকের জন্য মোট ২ লাখ ৯৮ হাজার ২৭৮ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। বাজেট অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য দৈনিক ১ হাজার ৫০০ টাকা হারে দুই দিনে মোট ৩ হাজার টাকা পাওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি চারজন প্রশিক্ষকের প্রত্যেকের জন্য দৈনিক ৩ হাজার টাকা হিসেবে দুই দিনে মোট ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণের নথিতে ৬৪ জন শিক্ষার্থীর শতভাগ উপস্থিতি দেখানো হলেও বাস্তবে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের কোনো নগদ ভাতা না দিয়ে তাদের নামে ভুয়া স্বাক্ষর দেখিয়ে পুরো অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষিকা পারভীন বেগম জানান, তার প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থীকে দুপুরের খাবার ছাড়া কোনো ভাতাই দেওয়া হয়নি। একইভাবে বিদ্যামাধুরী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভারতী রানী জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের কোনো ভাতা দেওয়া হয়নি, শুধু খাবারের প্যাকেট, স্যানিটারি প্যাড এবং যাতায়াত বাবদ ১ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদিন জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণটি ১৫ জুন একদিনেই শেষ হয়েছে এবং তিনি তার এক দিনের ভাতা হিসেবে ৩ হাজার টাকা পেয়েছেন। অথচ চারজন প্রশিক্ষকের জন্য দুই দিনের মোট ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও তাদের মোট ১২ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউএনও আখতার জাহান সাথী অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার না করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের নগদ ভাতা দেওয়ার পরিবর্তে স্যানিটারি প্যাড ও খাবার দেওয়া হয়েছে এবং যাতায়াতের জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কিছু অর্থ প্রদান করা হয়েছে।

















