বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, রাজপথে চাপ সৃষ্টি কিংবা মব তৈরির সংস্কৃতি শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রকেই দুর্বল করে দেয়। শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সমাধান রাজপথে না খুঁজে বরং সংসদীয় আলোচনা ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্র কেবল একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং এটি একটি সামগ্রিক সংস্কৃতি। রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে, মানুষের আচরণ ও চিন্তাভাবনায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা জরুরি। অন্যথায়, কেবল মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব নয়।
দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গণতান্ত্রিক চর্চার সূচনা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে খালেদা জিয়া সেই ধারা বজায় রাখার চেষ্টা করলেও বিভিন্ন সময় তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় সরকারকে ব্যর্থ আখ্যা দেওয়া বা ক্ষমতা ছাড়ার দাবি তোলা গণতান্ত্রিক আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা করা। নিজের সঙ্গে মতের অমিল থাকলেও অন্যের বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, কারণ রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

















