ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় চাঞ্চল্যকর আবু রায়হান তালুকদার (৪২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এই ঘটনায় চার বছর ধরে ভিকটিমের কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত মো. রাজু মির্জা ও তার সহযোগী মো. সোহেল মির্জা ওরফে জিতুলকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই বিকাল ৫টার দিকে ফুলবাড়ীয়া থানার কাহালগাঁও এলাকা থেকে আবু রায়হান নিখোঁজ হন। তার পরিবার ২৭ জুলাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। তদন্তের এক পর্যায়ে ২ আগস্ট তার বাড়ির ৩০০ গজ দূরে একটি পরিত্যক্ত ডোবার ঝোপ থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে রাখা অবস্থায় মানবদেহের ১৫টি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। পোশাক ও মরদেহের অংশ দেখে পরিবারের সদস্যরা সেটিকে আবু রায়হানের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন। পরদিন ৪ আগস্ট ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ফুলবাড়ীয়া থানার সাব-ইনস্পেক্টর শুভ্র সাহার নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তি ও সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে রাজু ও জিতুলের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া যায়। অভিযুক্ত রাজু মির্জা সোয়াইতপুর গ্রামের ফজলুল হক মির্জার ছেলে এবং তার সহযোগী জিতুল অনন্তপুর গ্রামের সুরুজ মির্জার ছেলে। ঘটনার পর তারা আত্মগোপনে চলে গেলে ২৬ আগস্ট রাত ১টা ৫০ মিনিটে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, রাজু কৌশলে আবু রায়হানকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে। এরপর রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা নিশ্চিত করার পর মরদেহ ১৫ খণ্ড করে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। অপরাধের প্রমাণ লুকাতে ডিটারজেন্ট, হারপিক ও হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ঘর ও বাথরুম পরিষ্কার করেছিল তারা। এমনকি ভিকটিম নিখোঁজ থাকার সময় তার মোবাইল ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে টাকাও তুলেছিল আসামিরা। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত রড, চাপাতি ও চাকুসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

















