নরসিংদীর সদর উপজেলার আলোচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। বোর্ড থেকে পাঠানো এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর ড. মো. মাসুদ রানা খানের স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বলা হয়েছে, শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ম-বহির্ভূত কৌশল অবলম্বন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানতে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সশরীরে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে বোর্ড কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির কাছে বেশ কিছু তথ্য চেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা, নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী, এসএসসি নির্বাচনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী এবং এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণকারী শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান, বিভাগ ও অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার অনুমতিপত্রও উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন জানিয়েছেন, তাদের নির্বাচনী পরীক্ষায় ৪৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ১০১ জন অকৃতকার্য হওয়ায় ৩৮২ জনকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এদিকে, একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন যে, তাদের সন্তানরা প্রথম শ্রেণি থেকে এই স্কুলে পড়াশোনা করলেও পরীক্ষার আগে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের মূল পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা দিয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, শতভাগ জিপিএ-৫ এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই নির্বাচনি পরীক্ষাকে বাছাইয়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে স্কুলটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনী পরীক্ষায় বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই নরসিংদীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, শুধু সানবীম স্কুলেই বাদ পড়া প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ১৬ আগস্ট ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে পাঠানো চিঠিতে এই বিষয়গুলোর যথাযথ ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

















