হিমালয়ের নদীতে পাহাড়ের কাদা ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে পড়ার ফলে নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে পৌঁছেছে। রয়টার্স ও বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুই দেশে অন্তত ৮০০ বিদেশিসহ প্রায় ১,৫০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার করা ১৬৫টি মরদেহের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে। এছাড়া জরুরি সেবায় নিয়োজিত ৮৫ কর্মীর সাথেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
নেপালের পুলিশ ও পর্যটন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, দেশটিতে নিখোঁজ ৮২৬ জনের মধ্যে প্রায় ৫০০ জনই বিদেশি নাগরিক। এদের মধ্যে ভারতের ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন। অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের জিরং কাউন্টিতে ২৬০ জন বিদেশিসহ ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং সেখানে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। নেপাল ও চীন উভয় দেশেই হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নিখোঁজদের সন্ধানে জোর উদ্ধার অভিযান চলছে।
ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু আশাব্যঞ্জক খবর পাওয়া গেছে। নেপালের সেনাবাহিনী রাসুলার হাকু এলাকায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে পড়া সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করেছে এবং অন্যান্য টানেলেও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া তিমুরে এলাকা থেকে ২১ জন ভারতীয় পর্যটকসহ মোট ৯৫ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই দুর্যোগে দুর্গত এলাকায় সড়ক, সেতু ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
















