নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে দুই বাইকআরোহী মুখোশধারীর গুলিতে সুজন পাল নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পৌর শহরের মাইলোড়া এলাকার রামকৃষ্ণ মন্দিরের পাশে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত সুজন পাল নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুর গ্রামের জিতেন্দ্র পালের ছেলে। তিনি মোহনগঞ্জ পৌর শহরের মনোরমা মিষ্টিন্ন ভান্ডার নামের একটি মিষ্টির দোকানে কাজ করেন। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাইলোড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানা গেছে, ভোরে ঘুম থেকে উঠে হাত-মুখ ধোয়ার উদ্দেশ্যে বাসার পাশের রামকৃষ্ণ মন্দিরের সামনের পুকুরে যাচ্ছিলেন সুজন। ওই সময় একটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুই মুখোশধারী লোক তার গতি রোধ করে এক প্রস্থানীয় প্রবাসীর বাড়ির ঠিকানা জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের একজন কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করলে সুজন আতঙ্কে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা চালান। ঠিক তখনই তাকে পেছন থেকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে মোটরসাইকেলটি নিয়ে সটকে পড়ে হামলাকারীরা। গুলি বর্ষণের শব্দে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে সুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
সুজন পালের স্ত্রী টুম্পা পাল জানান, সকালে বাসার পাশের সড়কে অবস্থানকালে মোটরসাইকেলে আসা দুই মুখোশধারী ব্যক্তি সুজনকে গুলি করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অলক কান্তি তালুকদার জানান, সুজনের পিঠে গুলি লেগেছে। সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। তবে আঘাত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে গুলির ঘটনার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বারহাট্টা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাব্বির হাসান, মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুন।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

















