যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনে দেশটির প্রাণকেন্দ্র নিউইয়র্ক সেজে উঠেছিল এক বর্ণিল সাজে। ৪ জুলাই সন্ধ্যা নামার পর থেকেই পূর্ব নদীর (ইস্ট রিভার) আকাশজুড়ে শুরু হয় মনোমুগ্ধকর আতশবাজির প্রদর্শনী। লাল, নীল ও সাদার আলোর ঝলকানিতে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই মহানগরী পরিণত হয় উৎসবের নগরীতে। ১৮ শতকে স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা যুক্তরাষ্ট্র এবার ২৫০ বছরে পদার্পণ করেছে। সেই গৌরব, স্বাধীনতার চেতনা এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা তুলে ধরতেই প্রতিবারের মতো এবারও আয়োজিত হয় এই বর্ণাঢ্য উৎসব।
আবহাওয়া দফতরের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর রাত ৯টায় যখন নিউইয়র্কের আকাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে আসে, তখন ম্যানহাটনের দিগন্ত যেন আলোর ঝলকানিতে দিনের আলোর রূপ নেয়। এবারের প্রদর্শনীতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে এবং অন্তত ৬০,০০০-এর বেশি শেল ব্যবহার করা হয়েছে, যা দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। প্রতিটি আলোর বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে চারপাশ করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে। শিশু থেকে প্রবীণ সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে স্বাধীনতা দিবস যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের উপস্থিতিতে শহরজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
প্রতি বছরের মতো এবারও হাজার হাজার মানুষ পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে নদীর তীর, পার্ক, ছাদ এবং নির্ধারিত দর্শনস্থলে জড়ো হন। আকাশে ফুটতে থাকা আতশবাজির নান্দনিক নকশা আর দেশাত্মবোধক সুরের মূর্ছনায় দর্শকদের মুগ্ধতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্রাজিল থেকে আগত পর্যটক ওলিভেইরা সান্তোস জানান, ছোটবেলা থেকে এই উৎসবের কথা শুনেছেন, কিন্তু সরাসরি দেখে তিনি অভিভূত। মেক্সিকোর শিমুরা মারিয়াট জানান, দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করে তিনি এখানে এসেছেন এবং উৎসবের সময়সীমা আরও বৃদ্ধির দাবি জানান। বাংলাদেশি প্রবাসী আজমল হোসেন চৌধুরী জানান, গত ১৭ বছর ধরে তিনি নিয়মিত ব্রুকলিন ব্রিজে এই আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন এবং তার মতে, এটি নিউইয়র্কের সবচেয়ে আকর্ষণীয় উৎসব।
উৎসবকে ঘিরে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জরুরি সেবা সংস্থার কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করেছেন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও জনসমাগম ব্যবস্থাপনায় ছিল বিশেষ নজরদারি। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কের আকাশে ফুটে ওঠা এই আতশবাজি কেবল বিনোদনের উৎস নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যের এক দীপ্তিময় পরিচয়, যা গোটা শহরকে এক অনন্য ঐক্যের অনুভূতিতে আবদ্ধ করে।

















