কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের ভদ্রপাড়া এলাকায় অনলাইন জুয়ার আসর ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় সুমন মিয়া (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৪ আগস্ট রাতে সংঘটিত এই হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত সুমন বর্তমানে কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার সুমনের স্ত্রী শারমিন আক্তার বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে অভিযুক্তরা হলেন মহিনন্দ ইউনিয়নের ভদ্রপাড়া এলাকার মৃত রফিক মিয়ার ছেলে মো. রাব্বুল হাসান তারেক (৩২), তার স্ত্রী মোছা. কলি আক্তার (২৮) এবং মৃত রফিক মিয়ার স্ত্রী মোছা. নাজমা আক্তার (৫৫)। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভদ্রপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঘটিয়ে আসছিল। স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া এসব কর্মকাণ্ডের নিয়মিত প্রতিবাদ করে আসছিলেন, যার জেরে চক্রটির সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। স্বজনদের অভিযোগ, এর আগেও সুমন ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টার দিকে বাড়ির সামনের রাস্তায় একা পেয়ে অভিযুক্তরা সুমনকে ঘিরে ফেলেন।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা বাঁশের লাঠি দিয়ে সুমনের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের একজন ধারালো চাপাতি দিয়ে সুমনের মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি প্রাণভয়ে দৌড়ে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা সেখানে ঢুকেও তাকে মারধর করেন, এতে তার মাথা, ডান পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. জহিরুল ইসলাম ও বিউটি আক্তার জানান, গ্রামে অনলাইন জুয়ার কারণে যুবসমাজ ধ্বংসের পথে এবং প্রতিবাদকারীদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত মো. রাব্বুল হাসান তারেকের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি এবং তার স্ত্রী কলি আক্তার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা মঙ্গলবার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

















