মানসিক রোগীদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজন দক্ষ চিকিৎসক, পর্যাপ্ত নার্স, নিয়মিত ওষুধ ও মানবিক পরিবেশ। অথচ দেশের একমাত্র বিশেষায়িত পাবনা মানসিক হাসপাতাল বর্তমানে মৌলিক সুবিধার চরম সংকটে ধুঁকছে। প্রায় ৩০ বছর ধরে ৫০০ শয্যার এই প্রতিষ্ঠানটি ২০০ শয্যার জনবল কাঠামো দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। মঞ্জুরিকৃত ৬৪৬টি পদের মধ্যে ১৬৩টি পদই বর্তমানে শূন্য। প্রথম শ্রেণির ৩৮টি পদের মধ্যে ১৬টিই খালি পড়ে আছে। এর মধ্যে একজন ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রিস্ট ও দুইজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ সিনিয়র কনসালটেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো প্রায় ৫০ বছর ধরে শূন্য রয়েছে, যা প্রশাসনিকভাবে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
হাসপাতালে বর্তমানে ৩৪৫ জন রোগী ভর্তি আছেন এবং বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ রোগী সেবা নিতে আসেন। জনবল সংকটের কারণে এই বিপুল সংখ্যক রোগীকে যথাযথ সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মানসিক রোগীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত কাউন্সেলিং ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়, যা জনবল ঘাটতির কারণে ব্যাহত হচ্ছে। ওষুধের সংকটও চরম আকার ধারণ করেছে; বহির্বিভাগের রোগীদের প্রয়োজনীয় সব ওষুধ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। নিম্ন আয়ের রোগীদের জন্য সরকারি হাসপাতালে ওষুধ না পাওয়া একটি বড় সংকটের কারণ, যা তাদের সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং রোগের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
রোগীদের খাবারের মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। জনপ্রতি প্রতিদিন মাত্র ১৭৫ টাকা বরাদ্দে চার বেলার খাবার নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন। মানসিক রোগীদের চিকিৎসার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো পুষ্টিকর খাবার, কিন্তু এই স্বল্প বরাদ্দে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব। পাশাপাশি হাসপাতালের অবকাঠামোগত অবস্থাও নাজুক; পুরনো ভবনগুলো নষ্ট হয়ে গেছে এবং কোয়ার্টারগুলো আগাছায় ঢেকে আছে। যদিও হাসপাতালটিকে ১ হাজার ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, তবে কেবল ভবন নির্মাণই সমস্যার সমাধান নয়।
নতুন প্রকল্পের সাথে সমন্বয় করে দীর্ঘদিনের শূন্যপদ পূরণ, জনবল কাঠামো পুনর্নির্ধারণ, ওষুধের পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং খাবারের বাজেট বাস্তবসম্মতভাবে বাড়ানো জরুরি। সেই সাথে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান নিয়মিত মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। পাবনা মানসিক হাসপাতাল কেবল একটি চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, বরং এটি বহু পরিবারের জন্য আশার স্থল। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানবসেবায় বিনিয়োগ করেই এই প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক ও কার্যকর করে তোলা এখন সময়ের দাবি।

















