রাজধানীর মিরপুরের কালশীতে মঙ্গলবার সকালে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই সংঘর্ষের সময় এক পুলিশ সদস্যকে ঘিরে ধরে মারধর করার অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মারধরের সময় ওই পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনাটি ঘটে বেলা ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে কালশী সড়কের একটি বেসরকারি সুপারশপের সামনে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী জানান, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ধাওয়া দিয়েছিল। একপর্যায়ে মিরপুর-১২ নম্বর সড়কের দিকে ধাওয়া দেওয়ার সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আন্দোলনকারীদের মাঝখানে আটকা পড়েন। আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে পুলিশ সদস্যরা সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় একজন পুলিশ সদস্য একা হয়ে পড়লে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ তাকে ঘিরে ফেলে মারধর শুরু করে। ওই নারী আরও জানান, হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যকে মাটিতে ফেলে মারধর করেন এবং তার বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তায় ফেলে দেন। পরবর্তীতে উপস্থিত কিছু মানুষের সহায়তায় ওই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে মেট্রোস্টেশন এলাকার দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলের পাশে থাকা একটি দোকানের কর্মীও মারধরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি ওই পুলিশ সদস্যকে মাটিতে ফেলে মারধর শুরু করলে তারা ভয়ে দোকানের শাটার বন্ধ করে দোতলায় চলে যান, ফলে পরবর্তী পরিস্থিতি আর দেখা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পিওএম (দক্ষিণ) বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) তৌহিদুল আরিফ সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা এখনো অবগত নন এবং খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই মিরপুর এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন। শনি ও রোববার মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বর এলাকায় সড়ক অবরোধের পাশাপাশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রোববার মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। সোমবারও শ্রমিকরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বাধা দেয়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলার পর পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

















