গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি ভাড়া বাসা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শাহিন হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের বাদিয়ারচালা এলাকার দুলালের বহুতল ভবনের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত শাহিন (৩২) রাজাবাড়ি ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মো. রতন মিয়ার ছেলে এবং তিনি রাজাবাড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহিন ও আমেনা নামের এক নারী স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। আমেনা একই ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের আরব আলীর মেয়ে এবং তিনি তিন সন্তানের জননী। সোমবার সকাল ১০টার দিকে আমেনা তার তিন সন্তানকে নিয়ে বাসা তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যান। পরে দুপুরে স্থানীয়রা তালাবদ্ধ ঘরের ভেতর শাহিনের মরদেহ দেখতে পেয়ে স্বজনদের খবর দেন। নিহতের বড় ভাই আজহার আহমেদ ৯৯৯ নম্বরে কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আমেনা পরিকল্পিতভাবে শাহিনকে হত্যা করেছেন। আজহার আহমেদ জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বন্ধু আল আমীনের মাধ্যমে তিনি ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমেনা কৌশলে তার ভাইকে পরকীয়ার ফাঁদে ফেলেছিল এবং বিয়ের ভান করে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করছিল। আজহারের দাবি, শাহিনের গলায় কালো দাগ রয়েছে এবং আমেনা তার লোকজনকে নিয়ে গ্রিলের সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বিছানায় রেখে তালা মেরে পালিয়ে গেছে।
নিহতের মা রাহিমা অভিযোগ করেন, আমেনা তার ছেলেকে আটকে রেখেছিল এবং তার সঙ্গে দেখা করতে দিত না। এছাড়া আমেনা তার ছেলের বিদেশ যাওয়ার জন্য জমানো সব টাকা আত্মসাৎ করেছে। তিনি খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

















