সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে তাদের আন্দোলন স্থগিত করেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় ‘নিয়োগবঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তারা এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
শিক্ষা ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, বর্তমানে ৮১৭ জন প্রার্থীর তথ্য যাচাই-বাছাই ও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। এই প্রক্রিয়া আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এবং এরপর তাদের নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোমবার সচিবালয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য দেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নিয়োগপত্র দেওয়ার কাজ চলছে। যাদের ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য যাচাই বাকি রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায় ১০ লাখ ৬৯ হাজার প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৪ হাজার ৩৮৪ জন। চূড়ান্ত আবেদন জমা পড়েছিল ১৩ হাজার ৮৫৪ জনের, কারণ ৫৩০ জন চূড়ান্ত আবেদন করেননি। বর্তমানে এই ১৩ হাজার ৮৫৪ জনের মধ্যে ৮১৭ জনের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ বাকি আছে।
নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা গত কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন। গত রোববার তারা রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। প্রায় আট ঘণ্টা অবস্থানের পর রাতে কর্মসূচি শেষ করে সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নেন। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রার্থীদের মূল দাবি ছিল, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত সবাইকে নিয়োগপত্র দিতে হবে এবং কেন কাউকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে হবে।
তবে, মন্ত্রীর নতুন আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা আপাতত তাদের কর্মসূচি স্থগিত রেখেছেন। নিয়োগবঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়েছে, ১ অক্টোবরের মধ্যে সবাই নিয়োগপত্র পাবেন—মন্ত্রীর এমন আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তারা আপাতত কর্মসূচি স্থগিত রাখছেন। এরপরও যদি কেউ নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হন, তবে বিভিন্ন পর্যায়ের শুভাকাঙ্ক্ষী, গণমাধ্যম, সংগঠন, আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এর আগে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছিল যে, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত কোনো প্রার্থীর নিয়োগপত্র জারি না হলে তার কারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতামতসহ একটি তালিকা ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১ অক্টোবর নিয়োগপ্রাপ্তদের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান এবং ৪ অক্টোবর পদায়ন আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে যারা নিয়োগপত্র পাননি, তাদের তালিকা ও নিয়োগ না দেওয়ার কারণ উল্লেখ করে মতামতসহ একটি তালিকা সোমবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা অধিদপ্তরে জমা দিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, আগের সূচি অনুযায়ী কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং মন্ত্রণালয় থেকে নতুন কোনো নির্দেশনা আসেনি।
ইতিমধ্যে কয়েকটি জেলায় দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যশোরে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ৯২ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন জেলায় ধাপে ধাপে নিয়োগপত্র প্রকাশের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল যে, ভেরিফিকেশন বা তথ্য যাচাইয়ের নামে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের একটি অংশকে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সরকারি চাকরিতে ভেরিফিকেশন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই শেষে নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বর্তমানে প্রার্থীদের নজর ১ অক্টোবরের দিকে। ওই সময়ের মধ্যে ৮১৭ জনের যাচাই-বাছাই ও নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা সম্পন্ন হয় এবং কারা নিয়োগপত্র পান—সেটিই এখন দেখার বিষয়। মন্ত্রী জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও যদি কেউ নিয়োগপত্র না পান, তবে তাদের বিষয়েও পরবর্তী সময়ে কাজ করা হবে।

















