পাবনা জেলা সদরের একটি গ্রাম থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন কিশোরীকে কুড়িগ্রাম থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অষ্টম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই তিন বন্ধু দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় গানের দল বিটিএস-এর ভক্ত এবং টিকটক দেখার নেশায় আসক্ত ছিল। টিকটক দেখেই তাদের মনে অন্য দেশে চলে যাওয়ার ইচ্ছা জাগে। গত রোববার স্কুলের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে তারা প্রথমে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।
পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ওই তিন কিশোরীর মধ্যে একজনের সঙ্গে পরিবারের মনোমালিন্য হয়েছিল। এরপর তারা তিনজন মিলে বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা বাসযোগে নাটোর ও রংপুর হয়ে কুড়িগ্রামে পৌঁছায়। সীমান্ত এলাকা খুঁজে না পেয়ে পথ হারিয়ে সন্ধ্যা নাগাদ কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালে পৌঁছালে তারা থাকার জায়গা খুঁজতে শুরু করে। একপর্যায়ে একটি অপরিচিত এলাকায় প্রবেশের পর তাদের গতিবিধি দেখে স্থানীয় এক নারীর সন্দেহ হয়। ওই নারী ছিলেন কুড়িগ্রাম সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাজউদ্দিন আহম্মেদের স্ত্রী।
তাজউদ্দিন আহম্মেদ জানান, তার স্ত্রী বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কিশোরীদের বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং তাকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর কৌশলে তাদের কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে পাবনা সদর থানা ও তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিন কিশোরী বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পাবনা সদর থানায় তিনটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে পুলিশ কাজ শুরু করে এবং কুড়িগ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। সোমবার দুপুরে কিশোরীদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিব্রত কিশোরীদের অভিভাবকরা তাদের ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। একজন অভিভাবক বলেন, ওরা ছোট মানুষ, ভুল করেছে; সন্তানদের ফিরে পাওয়াটাই বড় কথা। ২০১৩ সালে আত্মপ্রকাশ করা বিটিএস বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়, যাদের ভক্তরা ‘বিটিএস আর্মি’ নামে পরিচিত।

















