বাংলাদেশকে ঋণনির্ভর অর্থনীতির বৃত্ত থেকে বের করে একটি শক্তিশালী বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি নতুন সম্পদ সৃষ্টিতে সরকার কাজ করবে।
জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিটি নাগরিককে রাষ্ট্রীয় সেবার আওতায় আনতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্পোর্টস কার্ডের মাধ্যমে সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করছে। ভবিষ্যতে সব ধরনের সেবাকে একটি ইউনিভার্সেল কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। কৃষকদের সহায়তার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য দেশের কর্মক্ষম মানুষের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করা। বর্তমানে ১০ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং এই সংখ্যা ভবিষ্যতে কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া বিদেশি কর্মসংস্থান বাড়াতে বিভিন্ন ভাষা বিষয়ক সেবাও চালু করা হয়েছে।
পরিবেশ সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি নিজে দুই লাখ চারা রোপণ করেছেন এবং প্রতিবছর পাঁচ কোটি চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। এছাড়া ১০ হাজার নার্সারি তৈরির মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও তিনি জানান।

















