বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় সোমবার সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মহড়া চলাকালীন তিনি পায়ে হেঁটে জঙ্গল এলাকায় সেনাসদস্যদের বিভিন্ন কৌশলগত প্রশিক্ষণ, যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলার কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। এ সময় তাকে অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিরোধের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও অবহিত করা হয়।
পরিদর্শন শেষে সেনাসদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের গভীর আস্থা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠা দেশবাসীর মনে বাহিনীর প্রতি বিশেষ মর্যাদা তৈরি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন, পেশাদারিত্ব এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বাহিনীর এই অর্জিত আস্থা ও সুনাম ধরে রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উন্নত প্রশিক্ষণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও আরও বেশি পেশাগত স্বীকৃতি ও সুনাম অর্জন করবে।
সেনা পরিবারে বেড়ে ওঠার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাসদস্যদের সঙ্গে সময় কাটালে শৈশবের স্মৃতি ফিরে আসে। পরিদর্শনকালে তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা শোনেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন। এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে প্রস্তুত করা খাবারও তিনি সেনাসদস্যদের সঙ্গে গ্রহণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিকসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় আয়োজিত মহড়া পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি পায়ে হেঁটে জঙ্গল এলাকায় সেনাসদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি এবং কৌশলগত মহড়া ঘুরে দেখেন।

















