দেশে বিভ্রান্তি ও রটনা ছড়ানো ব্যক্তিদের ব্যাপারে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে তাদের ওপর ‘চোখে চোখে’ নজরদারি রাখতে হবে। অতীত পর্যালোচনা করেই ভবিষ্যতে তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রবিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে পুরাতন কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটিতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, ভিক্ষু ও পাদ্রিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্মানি প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশ স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিভ্রান্তকারীদের কথায় বিভ্রান্ত হওয়া চলবে না। যদি কেউ বিভ্রান্তি ছড়াতে আসে, তবে অতীতের মতো তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটকালে কিছু গোষ্ঠীর ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক ঘটনাবলী এবং বিগত ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। অথচ গত ১৭ বছরে বিএনপি ও তাদের মিত্রদের নেতাকর্মীরাই গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
সম্প্রতি ‘সংস্কার’ নিয়ে চলমান আলোচনার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ১৭ বছর রাজপথে অনুপস্থিত ছিলেন, তারা আজ সংস্কারের নামে বড় বড় কথা বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, বিএনপিই ২০২২ সালে সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয় সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিল এবং তারও আগে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই প্রথম সংস্কার প্রস্তাবনা তৈরি হয়েছিল।
সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদানের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে প্রত্যেক নাগরিককে অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে হবে। কৃষি আধুনিকায়ন এবং তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের জন্য নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। নারীদের ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের মতো পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নারীদের বিনামূল্যে পড়াশোনার সুবিধা এবং ভালো ফলাফলের জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, মাজহারুল ইসলাম ও জালাল উদ্দীন।

















