রাজধানীর মিরপুরের মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে চালানো হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় পর্যায়ের সদ্য বহিষ্কৃত নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের বাইরেও দলটির স্থানীয় কয়েকজন সাবেক নেতা-কর্মীরও এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। পুলিশ হামলার নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করতে সক্ষম হলেও এখনো তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর থেকে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনার মুখে গত বুধবার রাতে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। তবে দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি রাড্ডায় হামলার কথা উল্লেখ করা হয়নি। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ, মুঠোফোনের তথ্য এবং স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে চিহ্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, দারুসসালাম থানার ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্যসচিব শান্ত রহমান, শাহ আলী থানা অটোরিকশা শ্রমিক দলের সদস্য হুজাইফা এবং দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব হাফিজুর রহমান রয়েছেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়ার পর সেখানে যে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছিল, তার সঙ্গেও এসব ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শাহ আলী থানা বিএনপির সদস্য সাইফুল ইসলাম খোকন (৪৮) এবং শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি মো. আলম (৫৩) রয়েছেন। এছাড়া ভাঙচুরে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটর বহনকারী লোবেড গাড়ির চালক শহীদুল ইসলামকেও (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি দুজন সমিতির সদস্য আতিকুর ও কামরুল। পুলিশ হেমায়েতপুর থেকে ভাঙচুরে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটরটি উদ্ধার করেছে।
উল্লেখ্য যে, ২৫ সেপ্টেম্বর দায়ের করা মামলায় বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হামলার আগে জড়িতরা শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিন এবং বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছিল। ঘটনার রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে বি-ব্লক মাঠসংলগ্ন লেলিনের কার্যালয়ের সামনে লোকজন জড়ো হচ্ছেন, যা কাছাকাছি একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে। পরে তাঁরা সেখান থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা করতে যান। হামলা ও ভাঙচুরের সময় হানিফ মিয়া, আবুল কালাম, ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেলসহ অনেকে সাদা মাইক্রোবাসে ঘুরে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার জানিয়েছেন, হামলার নির্দেশদাতাদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। সংরক্ষিত নারী আসনের পদত্যাগ করা সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের (মিষ্টি) ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অনেক নেতা-কর্মী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

















