উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ধাপে ধাপে ঘনীভূত হয়ে বর্তমানে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে এই নিম্নচাপটি পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল এবং তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা শুরু হয়েছে, যা আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জানান, মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় চলতি মাসজুড়েই সারাদেশে কমবেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত উপকূলসহ সারাদেশেই বৃষ্টির তীব্রতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। এর আগে শুক্রবারও উপকূলসহ সারাদেশে কমবেশি বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার নৌবন্দরগুলোর জন্য এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ১৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া হাতিয়ায় ১৩৭, কুতুবদিয়া ও রামগতিতে ১১৩, ভোলায় ৮০, মাইজদীকোর্টে ৭০, চট্টগ্রামে ৫৮ এবং পটুয়াখালীতে ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে সারাদেশে ভ্যাপসা গরম কমে তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সিলেটে সর্বোচ্চ ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় এবং ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিসের সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

















