রাজধানীর ভবনগুলোর ভূমিকম্প ঝুঁকি কমাতে ত্রুটি চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ার মূল কারণ শুধু উচ্চতা নয়, বরং নকশাগত ত্রুটি, মাটির দুর্বলতা এবং নির্মাণে অনিয়ম। তাই ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা, মাটি পরীক্ষা এবং প্রকৌশলগত মান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
রাজউকের সক্ষমতা বাড়াতে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিরূপণ ও সচেতনতা তৈরিতে কাজ করবে। রিয়াজুল ইসলাম বলেন, রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক ভবন থাকায় একসঙ্গে ঝুঁকি নিরূপণ সম্ভব নয়, তাই র্যাপিড ভিজ্যুয়াল অ্যাসেসমেন্টসহ বিভিন্ন ধাপে প্রকৌশলগত মূল্যায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি সিটি করপোরেশন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
নির্মাণাধীন ভবনের অনিয়ম প্রসঙ্গে রাজউক চেয়ারম্যান স্পষ্ট করে বলেন, অনুমোদিত ছয়তলা ভবনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ১০ তলা করা কিংবা নকশা পরিবর্তন করে নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের ভবনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আইনি যাচাই ছাড়া অনুমোদন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। স্থপতি ও প্রকৌশলীদের তাদের নকশা ও তদারকির দায়ভার নিতে হবে এবং অনিয়ম হলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ এবং অকুপেন্সি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভবন নির্মাণের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণের মধ্যে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে নিয়মিত ভূমিকা রাখতে হবে। দেশের স্বার্থে এবং জনগণের নিরাপত্তার কথা ভেবে ডেভেলপারদের দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান জলাভূমি বা দুর্বল মাটির ওপর অপরিকল্পিত আবাসন প্রকল্পের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, ঢাকায় অনুমোদিত ভবনের অতিরিক্ত তলা নির্মাণের বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। রাজউকের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কোথাও কোথাও ছয়তলা অনুমোদন নিয়ে ১০ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। এসব ভবন চিহ্নিত করে দ্রুত পরিদর্শনের জন্য রাজউক চেয়ারম্যানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক সালেহ উদ্দিন জানান, ভূমিকম্পে উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য ঢাকার আশপাশের ৪১টি ফায়ার স্টেশনকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে ভবন নির্মাণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর তিনি জোর দেন।
ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহজাহান মোল্লা ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও সক্রিয় করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডুরার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম এবং এতে সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

















