রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম ও বক্তব্যের অসংগতি নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি। শনিবার দুপুরে রংপুর নগরের জাহাজ কোম্পানি এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিটির পক্ষ থেকে তদন্ত নিয়ে ১৯টি প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়। কমিটির সদস্যসচিব পলাশ কান্তি নাগ লিখিত বক্তব্যে বলেন, পুলিশ ও ফরেনসিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের সঙ্গে নিহতদের স্বজনদের ভাষ্য ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতার বড় ধরনের অমিল রয়েছে, যা জনমনে আস্থাহীনতা তৈরি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে, ইয়াবা সেবনের বাধা থেকে চারজনকে হত্যা করার বিষয়টি কতটা যুক্তিযুক্ত। এছাড়া হত্যার পর আসামিরা দীর্ঘ সময় বাড়িতে অবস্থান করে গোসল ও খাবার খেয়েছিল—পুলিশের এই ভাষ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, এবং হত্যার আগে ও পরে অজ্ঞাত মোটরসাইকেলের আনাগোনা বা নজরদারির বিষয়গুলো সঠিকভাবে তদন্ত করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি লুট হওয়া টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং ইয়াবার হিসাবের অসংগতি দূর করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
পলাশ কান্তি নাগ আরও বলেন, কেবল আসামিদের স্বীকারোক্তির ওপর নির্ভর না করে সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক আলামত ও মুঠোফোনের তথ্যের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। নাগরিক কমিটি এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা বিবেচনায় গ্রেপ্তার আসামিদের পক্ষে আদালতে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রংপুর আইনজীবী সমিতি। শনিবার সকালে সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি শাহেদ কামাল ইবনে খতিব ও সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন এ ঘোষণা দেন। সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে আসামিদের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হওয়ায় নৈতিক অবস্থান থেকে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে তারা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, নিহত পরিবারের স্বজনরা যেন সঠিক বিচার পান।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শ্বাসরোধে হত্যার এই ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

















