প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে কটিয়াদীর ভোগপাড়া মোড়সহ পুরো আঞ্চলিক মহাসড়ক জুড়ে চলছে সড়ক সংস্কারের তোড়জোড়। বুধবার সকাল পৌনে ৯টায় দেখা যায়, একদল শ্রমিক তড়িঘড়ি করে রাস্তার গর্তগুলোতে ইটের খোয়া ও বালুর প্রলেপ দিচ্ছেন। ঠিকাদারের প্রতিনিধি রতন মিয়া কাজের তদারকি করলেও সংস্কারের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি জানান, আগে প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হোক, তারপর কাজের মান বোঝা যাবে। স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ সদরের পাশাপাশি কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলায় দুটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং সড়ক সংস্কারকাজ দ্রুতগতিতে চলছে।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ইটাখোলা-মঠখোলা-কটিয়াদী মহাসড়কের কটিয়াদী থেকে পাকুন্দিয়ার বটতলা অংশের অবস্থা বেহাল ছিল। এখন প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষেই এই সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের মধ্যে এই কাজ নিয়ে কোনো আস্থা নেই। তাদের মতে, এটি কেবল এক দিনের জন্য লোক দেখানো সংস্কার। প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে বালু ও ইটের প্রলেপ দেওয়া অংশগুলো আরও পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। হেলিপ্যাডের পাশের সড়ক ও হেলিপ্যাডেও একইভাবে সংস্কারকাজ চলছে। শ্রমিকদের দলনেতা ফুল চান জানান, প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে বা আকাশপথে যেখানেই আসুন, দুই দিকই প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
শিমুলকান্দী ও মধ্যমান্দারকান্দী এলাকায় সড়কের বড় বড় গর্তগুলো পিচ বা বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। দুই দশক ধরে এই সড়কে বাস চালানো চালক আবুল কাইয়ুম বলেন, এতদিন কোনো খবর ছিল না, এখন প্রধানমন্ত্রীর জন্য দিনে-রাতে কাজ চলছে। রিকশাচালক লিয়াকত আলী ও স্থানীয় বাসিন্দা রুস্তম মিয়ার মতে, এই সংস্কার ১৬ তারিখ পর্যন্তও টিকবে কি না সন্দেহ। মেরাতলা অংশে পাথর ও বিটুমিন দিয়ে গর্ত ভরাটের প্রস্তুতি নিলেও বৃষ্টির কারণে তা টেকসই হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন শ্রমিক দলনেতা মনসুর মিয়া।
ভৈরব সড়ক উপবিভাগ সূত্র জানায়, ৪৫ দশমিক ১১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই আঞ্চলিক মহাসড়কের ১২ কিলোমিটার অংশ কিশোরগঞ্জে পড়েছে। এটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ওঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ, যা দূরত্ব ১৩ কিলোমিটার কমিয়ে দেয়। মেসার্স দাস ট্রেডার্স গত ২ এপ্রিল ১৬ কোটি ৯১ লাখ ২৩ হাজার ১১৪ টাকার কার্যাদেশ পেলেও কাজের গতি এখন প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করেই বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্প ব্যবস্থাপক অরবিন্দ কুমার দাস দাবি করেছেন, শুধু গর্ত ভরাট নয়, কার্পেটিংও করা হচ্ছে এবং বেতাল বাজারে ৩৬০ মিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। উপসহকারী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য জরুরি ভিত্তিতে এই মেরামতকাজ চলছে।

















