অপরাধ

জুলাই হত্যা মামলার আসামি হয়েও ধরাছোঁয়ার বাইরে আ.লীগ নেতা সজিব

প্রতিবেদক
সব খবর

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় একাধিক মামলার আসামি হয়েও হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সজিব আলী এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। তিনি বর্তমানে বাস-মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এই পদটিকে তিনি তার নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার এজাহারনামীয় আসামি হলেন সজিব আলী। ২০০৩ সালে সরাসরি ভোটে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যুগ্ম সম্পাদক এবং বর্তমানে জেলা কমিটির ৮ নম্বর সহসভাপতি পদে রয়েছেন। বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বহু পরিবহন শ্রমিককে রোষানলে ফেলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সদস্যদের মাঝে তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গত ৪ আগস্ট ছাত্র আন্দোলন দমনে সজিব আলী আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন বলে ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন। তাদের কাছে এ সংক্রান্ত পর্যাপ্ত ভিডিও ও তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে স্থানীয় কিছু পত্রিকায় দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও রাজনৈতিক নেতারা একে প্রতারণামূলক কৌশল হিসেবে দেখছেন।

শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, সজিব আলী শ্রমিক ইউনিয়নকে নিজের রাজতন্ত্রে পরিণত করেছেন। ২০২২ সালের ৮ অক্টোবর নির্বাচনে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তিনি প্রতিপক্ষ প্যানেলকে পরাজিত করেছিলেন। এছাড়া শ্রমিক শাহিন ভান্ডারীকে ১২ বছর ধরে হুমকি দেওয়া এবং সরকারের পতনের পর ১ বছরের ছুটির ঘোষণা দিয়েও কল্যাণ ফান্ড থেকে ভাতা ও বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন শ্রমিক নেতা দিয়ারিছ মিয়া।

জেলা যুবদলের আহ্বায়ক জালাল আহমেদ ও সদর উপজেলা বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. উজ্জ্বল মিয়া দাবি করেছেন, সজিব আলী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং যুবলীগ নেতাদের অর্থায়ন করে রাজনৈতিক মিছিলও করিয়েছেন। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল হক জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি মামলার এজাহারনামীয় আসামি কি না তা নিশ্চিত হওয়ার পর এবং ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর ওয়ার্ড থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা আত্মগোপনে গেলেও সজিব আলী নিজেকে আড়াল করে দলীয় তৎপরতা অব্যাহত রাখেন। গ্রেপ্তার এড়াতে স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকার মাধ্যমে দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। তবে রাজনৈতিক নেতারা এটিকে তার একটি প্রতারণামূলক কৌশল হিসেবেই দেখছেন।

শ্রমিক নেতা ও সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ, সজিব আলী শ্রমিক ইউনিয়নকে একচ্ছত্র রাজতন্ত্রে পরিণত করেছেন। ২০২২ সালের ৮ অক্টোবর নির্বাচনে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রতিপক্ষ প্যানেলকে পরাজিত করান, যা নিয়ে লেবার কোর্টে মামলা করেও কোনো সুরাহা মেলেনি। অভিযোগ রয়েছে, সজিব আলীর পাওনা টাকা চাইতে গেলে শ্রমিক শাহিন ভান্ডারীকে গত ১২ বছর ধ

সব খবর