ঢাকার সাভারে নাশকতার পরিকল্পনা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের মামলায় নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য মোহাম্মদ আরিফ ওরফে ইমরান (২৬)-এর ৬ দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ এই রিমান্ড আদেশ প্রদান করেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার থানার ইন্সপেক্টর নুর মোহাম্মদ আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ আগস্ট বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিটিটিসি জানতে পারে যে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা বিস্ফোরক দ্রব্যসহ সাভারের ট্যানারি শিল্প এলাকায় নাশকতার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। পরবর্তীতে প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে সাভারের বিসিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যানারি এস্টেটের পশ্চিম দেয়ালসংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে আরিফ ওরফে ইমরানকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটকের পর আরিফের ব্যাগ ও দেহ তল্লাশি করে একটি পাইপ বোমা তৈরির স্টিল পাইপ, চাপাতি, সুইচ গিয়ার নাইফ, ব্যাটারি, বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম এবং একটি নকিয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলেই একটি বিস্ফোরক জাতীয় বস্তু নিষ্ক্রিয় করা হয়। পরবর্তীতে আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে পটাশিয়াম নাইট্রেট, বিভিন্ন ধরনের তরল রাসায়নিক, রাসায়নিক পাউডার, বারুদ মিশ্রিত কটন বার, বৈদ্যুতিক তার, ডেটোনেটর, রিমোট ও কন্ট্রোলার, পাইপ বোমার ধ্বংসাবশেষ এবং জিহাদসংক্রান্ত বেশ কিছু বই উদ্ধার করা হয়।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ নিজেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য হিসেবে স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি তিনি সংগঠনের অন্যান্য সদস্যের নাম ও তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য দিয়েছেন। আরিফ ও তার সহযোগীরা দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা এবং জননিরাপত্তা বিপন্ন করার লক্ষ্যে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার মূলহোতা, অর্থদাতা ও পলাতক আসামিদের শনাক্ত করতে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলে তদন্ত কর্মকর্তা জানান।
গত ১২ আগস্ট সিটিটিসির এসআই আলমগীর হোসেন সাভার মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় আরিফ ছাড়াও মো. নাজমুল হাসান মামুন, মো. আব্বাস আলী, কামাল হোসেন ডাক্তার, রাখী ও রাকিবকে আসামি করা হয়েছে।
নাজমুল হাসান মামুন (৩২), পাবনার সুজানগর থানার দুর্গাপুর এলাকার মো.
আব্বাস আলী (৩০), আশুলিয়ার দিয়াখালী এলাকার কামাল হোসেন ডাক্তার (৪৫), রাখী (৩০) ও রাকিব (৩০) কে মামল্য় আসামি করা হয়েছে।

















