ফরিদপুর পৌরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের অলিয়াবাদ আব্দুর রহমান মোল্লার ডাঙ্গী এলাকায় শামেলা আক্তার (৬০) নামের এক নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলে রাহিম শেখের (৩২) বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত শামেলা আক্তার ওই এলাকার মৃত আকবর শেখের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী এক নারী দোতলার ছাদ থেকে শামেলা আক্তারের রক্তাক্ত মরদেহ উঠানে পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ছেলে রাহিম পলাতক রয়েছেন।
এলাকাবাসী ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, রাহিম শেখ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। নেশার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই নিজের মা ও ভাইবোনদের ওপর নির্যাতন চালাতেন। এর আগেও ১০ বছর আগে তিনি নিজের সৎমাকে কুপিয়ে হত্যা করেছিলেন। সেই মামলায় পাঁচ-ছয় বছর জেল খাটার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। স্থানীয় বাসিন্দা সুমন শেখের ধারণা, নেশার টাকার বিরোধ থেকেই আজ তিনি নিজের মাকে হত্যা করেছেন।
এই হত্যাকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফরিদপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ তনু। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক। সন্তানের হাতে মায়ের এই পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এলাকাবাসী এই ঘটনায় আতঙ্কিত ও শোকাহত। তিনি দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে রাহিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাথায় গুরুতর আঘাত ও থেতলানো অবস্থায় নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, ঘরের ভেতর থেকে ফয়েল পেপার, মোমবাতি ও সিগারেটের প্যাকেটসহ মাদকসেবনের বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। পলাতক রাহিম শেখকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

















