স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার রাতে জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ এই বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বিরোধী দল প্রস্তাবিত এই কমিটির বিরোধিতা করে এবং গণভোটের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।
চিফ হুইপ মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম মনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৬ বিধি মোতাবেক এই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৭ সদস্যের এই কমিটিতে বিএনপি থেকে ৭ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি থেকে ১ জন, গণসংহতি আন্দোলন থেকে ১ জন, গণঅধিকার পরিষদ থেকে ১ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ১ জন, স্বতন্ত্র সদস্য ১ জন এবং বিরোধী দলের জন্য ৫ জন সদস্য রাখার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। বিরোধী দলের কাছ থেকে নাম পাওয়া গেলে তাদের ৫ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি পুনর্গঠন করা হবে।
কমিটির সদস্যরা হলেন- সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ (২৯৪ কক্সবাজার-১), সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম (বরগুনা-২), মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (ঝিনাইদহ-১), জয়নাল আবেদিন (বরিশাল-৩), মোহাম্মদ জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), হাবিবুর রহমান (ভোলা-১), মোহাম্মদ নুরুল হক (পটুয়াখালী-৩), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (চট্টগ্রাম-৫), ফারজানা শারমিন (নাটোর-১), সাকিলা ফারজানা (মহিলা আসন-১) এবং মোহাম্মদ মাহমুদুল হক রুবেল।
ওয়াকআউটের সময় বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন যে, গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, তারা আগে থেকেই এই কমিটির বিষয়ে অসম্মতি জানিয়েছিলেন এবং গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন। প্রায় ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের গণরায়কে পাশ কাটিয়ে এই কমিটি গঠন করায় জনগণের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনী বাতিল করতে হলে সংসদের মাধ্যমেই প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন ও সংসদের কার্যক্রম চলছে, তাই আলাদা করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়ার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। মন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ ও তৃতীয় তফসিলে এমন কোনো শপথের বিধান নেই। মন্ত্রী জানান, কমিটি বিচার বিভাগ, আইনজীবী, গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে ১৮তম সংবিধান সংশোধনী বিল চূড়ান্ত করবে।

















