চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় রেকর্ড ১৩ লাখ শিক্ষার্থী খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছে। এই বিপুল সংখ্যক আবেদনের বিষয়টি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।
রাজধানীর বনানীতে শেরাটন হোটেলে সোমবার সকালে ‘কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম ২০২৬’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, মনে হচ্ছে সবাই খাতা পুনর্মূল্যায়ন করাতে আগ্রহী। এমনকি জিপিএ-৫ বা গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ার পরও শিক্ষার্থীরা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করছে, কারণ ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রাপ্ত নম্বরের গুরুত্ব অনেক বেশি।
মন্ত্রী জানান, এত বিপুল সংখ্যক উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য কাজ। এই প্রেক্ষাপটে সরকার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে। নতুন নীতিমালার আওতায় কোন ধরনের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পাবে, তা সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। এর আগে গত ১০ আগস্ট ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ভুল নম্বর বা প্রাপ্য নম্বর না পাওয়ার ক্ষেত্রে রিভিউ কমিটি গঠন করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে যথাযথ নম্বর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেছিলেন, আগে মূলত ট্যাবুলেশন শিট দেখা হতো, তবে এবার আইনগতভাবে উত্তরপত্র নতুন করে যাচাইয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আখতারুজ্জামান জানান, গত ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং আবেদনের সময়সীমা সোমবার রাত ১২টায় শেষ হয়েছে। এর মধ্যেই ১৩ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
উল্লেখ্য যে, এতদিন পর্যন্ত পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে কেবল চারটি বিষয় যাচাই করা হতো—সব প্রশ্নের নম্বর প্রদান, প্রাপ্ত নম্বরের যোগফল যাচাই, খাতার ভেতরের নম্বর ওএমআর শিটে সঠিক কি না এবং ওএমআর শিটের বৃত্ত ভরাট ঠিক আছে কি না। এই অসংগতিগুলো সংশোধন করে ফল প্রকাশ করা হতো, কিন্তু কখনোই খাতা পুনরায় মূল্যায়ন করা হতো না। এবার নতুন পদ্ধতিতে তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে পুরো খাতা নতুন করে যাচাই বা মূল্যায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

















