বাগেরহাটের শরণখোলায় পড়া না পারার অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে সাত বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী আজিজুল উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের পশ্চিম খাদা গ্রামের সুজন হাওলাদার ও মারুফা খাতুন দম্পতির ছেলে। বর্তমানে সে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, হাফেজি পড়ার জন্য আজিজুলকে আবাসিক ছাত্র হিসেবে দারুস সুন্নাহ মাদরাসায় ভর্তি করানো হয়েছিল। গত ২৫ আগস্ট বিকেলে পড়া না পারার অপরাধে শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম তাকে বেত ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশিটে দাগ পড়ে যায় এবং ব্যথায় সে রাতে ঘুমাতেও পারেনি।
ভুক্তভোগী শিশুর মামাতো ভাই রাকিবুল আকন জানান, ঘটনার পর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ শিশুটির স্বাস্থ্যের কোনো খোঁজ নেয়নি, বরং বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেছে। নিয়ম অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে আজিজুল বাড়িতে ফিরলে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপরই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মাসুম বিল্লাহ জানান, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে সে আশঙ্কামুক্ত।
এ বিষয়ে দারুস সুন্নাহ মাদরাসার পরিচালক মাওলানা সিফাতুল্লাহ ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, শিশুর পরিবারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে শিশুটির পরিবার শরণখোলা থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম জানান, পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















