খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেনকে চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার দিয়াগত রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর সংলগ্ন একটি চারতলা ছাত্র মেসে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত আজমুলের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার তিতুদহ ইউনিয়নের বড়শলুয়া গ্রামে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার রাতে তাঁকে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই মেসের তৃতীয় তলার শিক্ষার্থীরা ‘মিল সিস্টেমে’ খাবার খেতেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাঁরা দৌড়াদৌড়ি ও চিল্লাচিল্লির শব্দ শুনে বাইরে বেরিয়ে দেখেন, আজমুল নিচে পড়ে আছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে আজমুলকে ছাদে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে বেদম মারপিট করা হয়। পরে তিনি ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। রাত দেড়টার দিকে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে একটা পর্যন্ত মেসে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ভবনটির বেশিরভাগ কক্ষ তালাবদ্ধ। ‘বি-৫’ কক্ষে অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর দরজা খোলেন এক তরুণ। রান্নার কাজে নিয়োজিত ফাতেমা জানান, আজমুল ওই মেসের মিল সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। মেস মালিক সরোয়ার হোসেনের জামাতা আকিবুর রহমান জানান, মেসের বিষয়টি ম্যানেজার মেহেদী দেখভাল করতেন, যিনি নিজেও চতুর্থ তলায় থাকতেন। তবে ঘটনার পর থেকে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এ ঘটনায় আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে নগরের হরিণটানা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন ৪ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। নিহতের বাবা আক্ষেপ করে বলেন, তিনি আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছেন এবং কোনো বাবাকে যেন এমন সন্তানের লাশ বহন করতে না হয়।

















