ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি) ও সহযোগী সংগঠনের ডাকা বিক্ষোভের প্রথম দিন শনিবার দিল্লি অচল করে দিতে পুলিশ যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছিল, তার সবই প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না। এই নির্দেশের ফলে সরকার প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছে।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনার বিশেষ বেঞ্চ রোববার শুনানিতে বলেছে, সিজেপির বিক্ষোভের ডাক সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণের শর্তসাপেক্ষে মানুষের অবাধ চলাচলের বিষয়টি স্বাভাবিক রাখা উচিত। বিচারপতিদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কেবল অত্যন্ত জরুরি হলেই বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে, অন্যথায় সমস্ত ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলতে হবে। একইসঙ্গে আদালত ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক রাখারও নির্দেশ দিয়েছে।
এর আগে শুক্রবার আদালত কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছিল, ১০ অক্টোবর দিল্লিতে মেট্রো ও ট্রেন চলাচলের ওপর যেন কোনো ‘সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা’ না থাকে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে যে, মেট্রো স্টেশনগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল, যা আবেদনকারী ও আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠীর মতে আদালতের অবমাননা। আদালত জানিয়েছে, মানুষের বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার রয়েছে, তবে তা অবশ্যই পুলিশ আইনের আওতাভুক্ত হতে হবে। বিচারপতি বাগচী আবেদনকারীকে স্পষ্ট করেন যে, বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার পুলিশ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি)-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই আটক-সংক্রান্ত ঘটনা ও পরিস্থিতির ওপর নোটিশ জারি করেছে। আদালত আগামী মঙ্গলবার নাগাদ এ বিষয়ে একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট বা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

















