ভূমধ্যসাগরের উপকূলে সিরিয়ার দুটি কৌশলগত সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাশিয়ার সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছেছে দামেস্ক। এই নতুন চুক্তির ফলে ঘাঁটি দুটি রাশিয়ার একক সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই এই রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই চুক্তির অধীনে লাতাকিয়ার কাছে অবস্থিত হিমেইমিম বিমান ঘাঁটি এবং তারতুস বন্দরের বাণিজ্যিক অংশ সিরিয়ার বেসামরিক প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। ইতোমধ্যে সিরিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ লাতাকিয়া বিমানবন্দরের কারিগরি ও পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ শুরু করেছে। তবে ঘাঁটির সামরিক অবকাঠামোগুলোকে এখন থেকে ‘যৌথ প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা উন্নয়ন কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। সিরীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতির একটি নতুন পুনর্গঠন হিসেবে অভিহিত করেছে।
২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাশিয়া ছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের প্রধান সামরিক ও রাজনৈতিক মিত্র। তবে আসাদ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারা মস্কোর সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ইতোমধ্যেই দুইবার মস্কো সফর করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠক করেছেন, যেখানে এই ঘাঁটিগুলোর বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।
একই সাথে নতুন সিরীয় প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও আরব দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁন দামেস্ক সফর করে ১৪ বছর পর পুনরায় রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন। প্রায় দেড় বছরের আলোচনার পর অর্জিত এই চুক্তিকে সিরিয়া ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

















