প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুই দিনের দিল্লি সফর আয়োজনের প্রস্তাব রয়েছে ভারতের পক্ষ থেকে। চলতি মাসে এই সফরের আয়োজন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দিন ধরে জোর তৎপরতা চলছে। প্রাথমিকভাবে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে সফরের পরিকল্পনা থাকলেও, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে দুই দেশের মতপার্থক্য সফর চূড়ান্ত করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে ঢাকা ও দিল্লির অবস্থান এখনো এক হয়নি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে একটি ‘সহায়ক পরিবেশ’ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার ভারতে বসে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য বাংলাদেশের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র এবং এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত ঘৃণা ছড়িয়েছেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকা এ বিষয়ে ভারতের কাছে জোরালো নিশ্চয়তা চায়। এদিকে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ঢাকায় ফিরেছেন এবং শনিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে, যেখানে সফরের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক মিডিয়া কর্মকাণ্ড নিয়ে ঢাকা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ভারত ৩ আগস্ট সরকারকে আশ্বস্ত করার পরও শেখ হাসিনা সরাসরি প্রথমবারের মতো মতবিনিময়ের সুযোগ পেলেন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এর জবাবে রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছিলেন, ভারতের মাটি থেকে বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য ভারত সরকার অনুমোদন করে না।
বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য, ট্রানজিট, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো এই সফরের আলোচ্যসূচিতে থাকতে পারে। ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এটি নবায়নের আলোচনাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। যদিও শেখ হাসিনার ইস্যুটি সফরের সময় ও চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় বণিক সংগঠন সিআইআই-এর একটি প্রতিনিধিদল সোমবার ঢাকায় আসছে, যারা ৭ সদস্যের এই প্রতিনিধিদলটি সরকারের একাধিক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর পাশাপাশি ব্যবসা এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করবে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফরটি বাংলাদেশ ও ভারতের নতুন রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রথম বড় পরীক্ষা হতে পারে। দুই দেশই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগ্রহ দেখালেও, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি জটিলই থাকছে।

















