ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আরিফুজ্জামান পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অশালীন প্রস্তাব, ব্ল্যাকমেইল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মো. সোহেলের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর বার্তা পাঠানোরও অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর চাচা মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, ১৪ বছর বয়সী ওই ছাত্রী অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে নিয়মিত প্রাইভেট পড়ত। এই সুযোগে শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করে আসছিলেন। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষক ছাত্রীটিকে শাড়ি পরা ছবি পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং রাজি না হওয়ায় মোবাইল ফোনে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এসব ঘটনার কারণে ছাত্রীটি বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং বিদ্যালয়ে যাওয়া ও প্রাইভেট পড়তে যাওয়া নিয়ে আতঙ্কবোধ করছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. সোহেল নিজের ভুল স্বীকার করে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে ভুল করে ফেলেছি। ওই মেসেজ দেওয়া আমার ঠিক হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এত দূর গড়াবে, তা আমি বুঝতে পারিনি। যেহেতু ঘটনাটি এতদূর গড়িয়েছে, তাই আমি আর চাকরি করব না। দুই-এক দিনের মধ্যেই পদত্যাগপত্র জমা দেব।’ তিনি তার শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে আরও বলেন, ‘আমি তোমাদের সামনে দাঁড়ানোর নৈতিকতা হারিয়ে ফেলেছি। তোমরা ভালো একজন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়া শুরু করে দিও।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি বিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

















