চট্টগ্রাম নগরের খুলশীর ওয়্যারলেস কলোনি এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে মো. হৃদয় (১৬) নামে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। নিহত হৃদয় তার বাবার সঙ্গে ভ্যানে করে সবজি বিক্রিতে সহযোগিতা করত। মঙ্গলবার রাতে ওয়্যারলেস কলোনির তালতলা এলাকায় তাকে ডেকে নিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় ‘ফাইভ স্টার’ ও ‘সেভেন স্টার’ নামে দুটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এই দুই দলের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সপ্তাহখানেক আগে ‘সেভেন স্টার’ গ্রুপের সদস্যরা হাতে কিরিচ ও লোহার চাকতি নিয়ে সড়কে প্রকাশ্যে মহড়া দেয় এবং সেই ভিডিও টিকটকে ছড়িয়ে দেয়। পুলিশ বলছে, ওই ভিডিওতে থাকা কিরিচ দিয়েই হৃদয়ের কানে কোপ দেওয়া হয়েছিল। পরে ঘটনাস্থলের পাশ থেকে রক্তমাখা কিরিচটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার রাতে মোহাম্মদ কামরুল (২৫) নামের এক যুবক হৃদয়কে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তালতলা এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ফেলে। ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর প্রথমে কিরিচ দিয়ে হৃদয়ের কানে কোপ দেয় এবং পরে আরও কয়েকজন মিলে তাকে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও কেউ ভয়ে এগিয়ে আসার সাহস পায়নি। পরে হৃদয়ের চাচা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানান, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে কামরুলসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পাঁচজনের বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ‘ফাইভ স্টার’ গ্রুপের সদস্য হৃদয়ের সঙ্গে ‘সেভেন স্টার’ গ্রুপের সদস্যদের কথা-কাটাকাটি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। যদিও উভয় পক্ষের ‘বড় ভাইদের’ মাধ্যমে একবার বিষয়টি মীমাংসা হয়েছিল, কিন্তু হৃদয় বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গ করায় তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহত হৃদয়ের বাবা কুরবান আলী জানান, তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং ছেলেকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় সবজি বিক্রি করতেন। তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত হৃদয় স্থানীয়ভাবে খুলশী থানা যুবদলের আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ‘ফাইভ স্টার’ গ্রুপের সদস্য ছিল। তবে হেলাল উদ্দিন এ বিষয়ে কোনো সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, ‘সেভেন স্টার’ গ্রুপটি স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা ও তার ভাইয়ের নির্দেশে পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।.চট্টগ্রামে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে কিশোরকে খুন, আটক ৫.খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম প্রথম আলোকে বলেন, জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার রাতেই অভিযান শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দুই গ্রুপের বিরুদ্ধে দখলসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন।গত ৮ জুন সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টা ও অস্ত্রবাজির অভিযোগে ওয়াকিলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

















