চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় পুলিশের অভিযানে ধরা পড়ার আগে ‘গলা কাটা মোবারক’ নামে পরিচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন পুলিশের কাছে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চেয়ে কসম করিয়েছেন। ঘটনার সময় মোবারক ঘরের ফলস ছাদে অস্ত্রসহ লুকিয়ে ছিলেন এবং পুলিশ ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে টানা ছয়টি গুলি ছুড়েন। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। অভিযানের এক পর্যায়ে পুলিশ তাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায়। এ সময় মোবারক তার নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের একজন সদস্য মোবারককে অস্ত্র ফেলে দিয়ে জীবন বাঁচানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি মোবারককে উদ্দেশ্য করে বলেন, বাইরে কেউ তাকে মারার জন্য অপেক্ষা করছে এবং পুলিশ তাকে বাঁচাতেই সেখানে এসেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হয় যে, অস্ত্র জমা দিলে তার কোনো ক্ষতি হবে না। এক পর্যায়ে মোবারক বলেন, আপনারা কসম করেন আমাকে কিছু করবেন না। তখন পুলিশের সদস্যরা খোদার কসম খেয়ে তাকে আশ্বস্ত করেন যে, তার কোনো ক্ষতি করা হবে না। এরপর মোবারক ঘরে থাকা এক বৃদ্ধের মাধ্যমে অস্ত্র হস্তান্তর করতে সম্মত হন।
পুলিশ জানায়, মোবারকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। এই অভিযানে মোবারক ছাড়াও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৩টি পিস্তল, ২৩ রাউন্ড পিস্তলের গুলি এবং ৪টি শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন। তিনি জানান, মোবারকের ছোড়া গুলিতে তিনি নিজে এবং আরও পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর শেষ পর্যন্ত মোবারককে ফলস ছাদ থেকে নামিয়ে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

















