সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে গরু চুরির অভিযোগে তিনজনকে আটক করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় কুড়াল দিয়ে আঘাত করে একজনের পা ভেঙে দেওয়া এবং তিনজনের চোখে চুন ঢুকিয়ে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দেওয়ার মতো অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। পুরো ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাবাজারের পালইছড়া জান্নাতুল জান্নাত জামে মসজিদের সামনে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা হলেন দোয়ারাবাজারের বাংলাবাজার ইউনিয়নের বড়ইউড়ি গ্রামের হাসান আলীর ছেলে আবু বক্কর (৩৫), একই ইউনিয়নের পূর্ব গিলাতলী গ্রামের মৃত মফিজ আলীর ছেলে নিজাম উদ্দিন (৩০) এবং ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের জোরাখানি গ্রামের মৃত শেরগুল মিয়ার ছেলে সোনাই মিয়া (২৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে দোয়ারাবাজারের ভক্তারপুর গ্রামের ইকবাল হোসেনের দুটি গরু চুরি হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে পালইছড়া গ্রামের লোকজন গরুসহ সোনাই মিয়াকে আটক করেন। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে আবু বক্কর ও নিজাম উদ্দিনকে ধরে আনা হয়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য হানিফ আলী, বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলমসহ কয়েকজন এবং শত শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিস বসে। সালিস চলাকালীন উত্তেজিত জনতা তিনজনের হাত-পা বেঁধে অমানবিক নির্যাতন চালায়। এ সময় আবু বক্করের ডান পা কুড়াল দিয়ে আঘাত করে ভেঙে দেওয়া হয় এবং তিনজনের চোখে চুন ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, আহতরা মাটিতে পড়ে আছেন, তাদের নাকে-মুখে ও চোখে চুন লাগানো এবং একজনের পা রক্তাক্ত। সেখানে স্থানীয়দের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদেরও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলম জানান, এলাকায় চুরির উপদ্রব বেশি হওয়ায় সালিস বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে চোর ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক শাস্তি দেওয়া হবে। এতে যদি গণপিটুনিতে কারও মৃত্যুও হয়, তবে সালিস বোর্ড তা দেখবে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য হানিফ আলী ঘটনা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, পুলিশ তিনজনকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

















