ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করায় শাস্তির মুখে পড়েছেন মার্কিন বিমানবাহিনীর এক সদস্য। মেজর জেসন ওয়াটসন নামের ওই কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ এবং এই কারণে তার অভিশংসন হওয়া উচিত।
মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত সদস্যদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং প্রকাশ্য বক্তব্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর বিধি-নিষেধ বিদ্যমান রয়েছে। কোনো সেনাসদস্য এমন কোনো কাজ করতে পারেন না, যা সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতাকে জনসমক্ষে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। এই নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগেই মেজর জেসন ওয়াটসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে সামরিক শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে। অন্যদিকে, সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন যে, একজন সেনাসদস্য ব্যক্তিগত পর্যায়ে সরকারের নীতির সমালোচনা করার বা মত প্রকাশের ক্ষেত্রে ঠিক কতটা স্বাধীনতা ভোগ করতে পারেন।
মূলত ইরানকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন তুঙ্গে। প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা শুধুমাত্র বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের মধ্যেও এটি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই বিমানসেনার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপটি মার্কিন সামরিক বাহিনীতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং সামরিক শৃঙ্খলার সীমারেখা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

















