যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের জন্য বিদ্যমান ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বা সময়সীমা বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে মার্কিন সরকার। চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থান খোঁজা কিংবা দেশ ছাড়ার প্রস্তুতির জন্য বর্তমানে এই বিশেষ সময়টি দেয়া হয়। প্রস্তাবিত এই নতুন নিয়মটি চূড়ান্ত রূপ পেলে ভিসা শেষ হওয়া কর্মী এবং তাদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমানে এই প্রস্তাবটি হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি)-এর পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে এবং এটি এখনও চূড়ান্ত কোনো আইনি বিধি হয়ে ওঠেনি।
প্রস্তাবটি কার্যকর হলে, অনুমোদিত মেয়াদের আগেই যদি কোনো কর্মীর চাকরি শেষ হয়ে যায়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মী ও তাদের পোষ্যরা ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধাটি আর পাবেন না। এর ফলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে থেকে আইনগত স্ট্যাটাস পরিবর্তন করা কিংবা অন্য কোনো নিয়োগকর্তার অধীনে যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (ইউএসসিআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, এইচ-১বি ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হলো ভারতীয় নাগরিকরা। আইনটি পাস হলে তাদের ওপর এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত মোট এইচ-১বি আবেদনের ৭১ শতাংশই ছিল ভারতীয়দের জন্য। এছাড়া সাম্প্রতিক মার্কিন জনগণনার তথ্যমতে, দেশটিতে বর্তমানে পাঁচ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করছেন। বর্তমানে ২০১৭ সালে চালু হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, ই-১, ই-২, ই-৩, এইচ-১বি, এইচ-১বি১, এল-১, ও-১ এবং টিএন ক্যাটাগরির মতো নির্দিষ্ট কিছু অ-অভিবাসী কর্মী চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে ৬০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারেন। এই সময়ের মধ্যে তারা নতুন চাকরি খোঁজা বা অন্য কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় দেশটিতে থাকার বিষয়টি বিবেচনা করার সুযোগ পান। তবে প্রস্তাবিত নিয়মটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে এই সুরক্ষা ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

















