দুই বছর পেরিয়ে গেলেও নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের পুরোটা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় কারাগারের ফটক ভেঙে বিক্ষুব্ধ জনতা অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালিয়েছিল। সে সময় কারাগারের ব্যারাকে থাকা ৮৫টি অস্ত্র এবং প্রায় ৮ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া কারাগার থেকে ৮২৬ জন কয়েদি বের হয়ে গিয়েছিল।
পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও বিভিন্ন সময়ে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে অধিকাংশ অস্ত্র ও ছয় শতাধিক কয়েদিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও ২৭টি অস্ত্র এবং ৬ হাজারের বেশি গোলাবারুদ উদ্ধার হয়নি। পাশাপাশি ১৬৬ জন কয়েদি এখনো পলাতক রয়েছেন। বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি এবং পলাতক আসামিরা বাইরে থাকায় নরসিংদীর জনপদে নতুন করে নিরাপত্তা-উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, চরাঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, বন্দুকযুদ্ধ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় লুট হওয়া এসব অস্ত্র ব্যবহৃত হতে পারে।
নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ বলেন, নরসিংদী জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তলানিতে নেমেছে। যেসব সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের হাতে এসব অস্ত্র রয়েছে, অবিলম্বে তা উদ্ধারের দাবি জানান তিনি। নরসিংদী জজ কোর্টের আইনজীবী মুনসুর আলি শিকদার বলেন, যারা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেনি তারা অবশ্যই এই অস্ত্র লুটের সঙ্গে জড়িত। অন্য এক আইনজীবী জানান, লুট হওয়া অস্ত্রগুলো দিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে, যা ভবিষ্যতেও নরসিংদীবাসীর জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কারাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই অগ্নিসংযোগে কারাগারের অফিস, নথি, রেকর্ডপত্র ও কম্পিউটারসহ সবকিছু ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, যা দাপ্তরিক কাজে নিয়মিত সমস্যার সৃষ্টি করছে। জেল সুপার মো. তারেক কামাল জানান, তারা এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশিকুর রহমান দাবি করেন, অস্ত্র উদ্ধারে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং নিয়মিত অভিযানের ফলেই চরাঞ্চল বর্তমানে শান্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের সময় নরসিংদী জেলায় ২০ জন শহীদ হন এবং জেলা প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী আহতের সংখ্যা ৪৪৩ জন, যদিও বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা হাজারের বেশি।

















