আগামী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। পরীক্ষা, রমজান এবং নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়গুলো সমন্বয় করতে আরও কিছু কাজ বাকি থাকায় সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে পারছে না কমিশন।
রাজধানীর নির্বাচন ভবনে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, আগামী বছরের ৬ জুন এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। তবে ভোটের কার্যক্রম কবে থেকে শুরু হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদের ভোট ৬ জুনের আগে সম্পন্ন করার বিষয়ে সবাই সম্মত হয়েছেন, যাতে তা এইচএসসি পরীক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়।
ভোটের জন্য উপযুক্ত সময় খোঁজা হচ্ছে জানিয়ে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য উপযুক্ত স্লট বা সময় পাওয়া জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস জুড়ে পরীক্ষা থাকায় এ সময়ে বিরতি খুব কম। এছাড়া জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরুতে রোজা শুরু হবে। রোজা শেষ হওয়ার পরপরই এসএসসি পরীক্ষা এবং এরপরই এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি রয়েছে। এই সীমিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে আরও সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানান।
বৈঠকে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর পক্ষ থেকে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বন্যার কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার ওপর যে প্রভাব পড়েছে, তা এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এছাড়া শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়গুলো বিবেচনা করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার এসব উদ্বেগকে যৌক্তিক হিসেবে উল্লেখ করে জানান, নির্বাচনের বাজেট পরিকল্পনাসহ অন্যান্য কাজ দ্রুত শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব তারিখ ঘোষণা করা হবে।
ইসির প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আগের সময়সূচিটি ছিল সম্ভাব্য এবং প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক সভার আলোকে তৈরি। ১৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের পর সময়সূচি চূড়ান্ত করার কথা আগেই বলা হয়েছিল। বর্তমানে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী যখন যে নির্বাচন করার প্রয়োজন, কমিশন তখনই তা সম্পন্ন করবে।

















