সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিলের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ১০ জুলাই সারা দেশে সর্বাত্মক ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলে সন্ধ্যা পৌনে ৮টা পর্যন্ত। কেন্দ্রীয়ভাবে শাহবাগে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করায় রাজধানী কার্যত সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ১৮টি পয়েন্টে অবরোধের কারণে জনজীবন অচল হয়ে যায়। এর মধ্যে শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাব মোড়, কাঁটাবন, নীলক্ষেত, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, মহাখালী, চানখাঁরপুল, মৎস্য ভবন, জিপিও, রামপুরা ব্রিজ, আগারগাঁও, হাতিরঝিল মোড় ও মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার উল্লেখযোগ্য। এমনকি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ফার্মগেটের অংশেও আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীর অস্বাভাবিক চাপে মেট্রোরেলের সচিবালয় ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন স্টেশনের ফটকে তালা দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতির মধ্যে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি সিএনজি অটোরিকশায় চড়ে জাতীয় সংসদে তৎকালীন স্পিকার শিরীন শারমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান।
রাজধানীর বাইরেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ী, সাভার, গোপালগঞ্জ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, পাবনা, দিনাজপুর, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে শিক্ষার্থীরা অবরোধ গড়ে তোলেন। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও ময়মনসিংহসহ সাতটি স্থানে রেলপথ অবরোধ করা হয়। দুপুর ১২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সারা দেশের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অন্তত ২২টি ট্রেনের যাত্রায় বিলম্ব ঘটে।
একই দিনে সরকারি চাকরির ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত কোটার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শেষে আপিল বিভাগ স্থিতাবস্থার আদেশ দেয়। এর ফলে কোটা ব্যবস্থা পূর্বাবস্থায় থেকে যায়, অর্থাৎ এই পাঁচটি গ্রেডে কোটা থাকছে না। আদালত আশা প্রকাশ করেছিল যে, শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাবে এবং আইনজীবীদের মাধ্যমে বক্তব্য উপস্থাপন করবে। তবে শিক্ষার্থীরা এই আদেশ মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ ও সারজিস আলম শাহবাগের সমাবেশে ঘোষণা দেন যে, তাদের একমাত্র দাবি হলো সব গ্রেডে কোটা বাতিল করে সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ কোটা রেখে সংসদে আইন পাস করা। সারজিস আলম বলেন, আদালতের নয়, বরং সরকারের নির্বাহী বিভাগের কাছে তাদের দাবি। নির্বাহী বিভাগ ত্রুটিহীন পরিপত্র জারি না করা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। তারা ১১ জুলাই বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে আবারও সারা দেশে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ধানমন্ডিতে দলের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আগস্টের প্রথম সপ্তাহে সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্ত শুনানি হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগ সৃষ্টি না করে আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানান।

















