সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে বাংলাদেশে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন ও অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। একই দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে দামের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে নভেম্বর সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৬৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০২.১৫ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, অক্টোবর সরবরাহের জন্য ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১.৮৩ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮.৪৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে এক ব্যারেল অপরিশোধিত তেলে প্রায় ১৫৮.৯৯ লিটার থাকে। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী প্রতি মার্কিন ডলারের দাম প্রায় ১২৩ টাকা। এই হিসাবে, ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেলপ্রতি ১০২.১৫ ডলার বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২,৫৬৪ টাকা, যা প্রতি লিটার অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৭৯ টাকা। অন্যদিকে, ডব্লিউটিআইয়ের ব্যারেলপ্রতি ৯৮.৪৬ ডলার বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২,১১০ টাকা, যা প্রতি লিটার অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৭৬ টাকা।
তবে, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের এই আনুমানিক দাম বাংলাদেশের পাম্পে বিক্রি হওয়া জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে সরাসরি তুলনীয় নয়। অপরিশোধিত তেলের দামের সঙ্গে পরিশোধন, পরিবহন, কর, শুল্কসহ বিভিন্ন খরচ যোগ হওয়ার পর খুচরা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারিত হয়।
জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকেরা ১৮ সেপ্টেম্বরের এক নোটে জানিয়েছেন যে, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে বিঘ্ন থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে গড়ে প্রতিদিন ১ কোটি ৭১ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হয়েছে, যা ২০২৫ সালের গড় সরবরাহের তুলনায় প্রতিদিন ৬১ লাখ ব্যারেল কম। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে নতুন করে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা এখনো রয়েছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে নভেম্বর সরবরাহের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ১৫ ডলারে নেমেছে।
এক ব্যারেল অপরিশোধিত তেলে প্রায় ১৫৮ দশমিক ৯৯ লিটার থাকে। আর বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী প্রতি মার্কিন ডলারের দাম প্রায় ১২৩ টাকা।
















