ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিদ্যমান বিরোধ নিষ্পত্তি করতে তেহরান এখনও আগ্রহী। তবে এই আলোচনার পথে প্রধান বাধা হিসেবে তিনি পারস্পরিক আস্থার অভাবকে চিহ্নিত করেছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্ক সফররত পেজেশকিয়ান শুক্রবার মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যেসব প্রতিশ্রুতি লিপিবদ্ধ করা হয়, তা উভয় পক্ষকেই মেনে চলতে হয়। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অবশ্যই এটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন যে ইরানের সরকার বা প্রশাসন পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। এ সময় মার্কিনিদের নিজেদের অবস্থানে থেকে পরিস্থিতির বিচার করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি আপনার সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করে এবং পূর্বের সব চুক্তি লঙ্ঘন করে, তবে আপনাদের প্রতিক্রিয়া কী হতো? এমন পরিস্থিতির সমাধান করা সহজ নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ওয়াশিংটন মূলত ইরানের বর্তমান প্রশাসনকে অকার্যকর করতে চায়, যা ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বক্তব্যেও স্পষ্ট। তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে আলোচনার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করছে এবং সামরিক হামলা চালাচ্ছে। ওয়াশিংটন লিখিত প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় তাদের ওপর আস্থা রাখা কঠিন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারায় এবং এর জবাবে তেহরান পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। জুন মাসে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পরবর্তীতে আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত মতপার্থক্য আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির আশা এখনও ত্যাগ করেননি পেজেশকিয়ান। শুক্রবার সিএনবিসিকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলকে সহযোগিতা বন্ধ করে, বেসামরিক নাগরিক ও বিজ্ঞানীদের ওপর হামলা থেকে বিরত থাকে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, তবেই এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।

















